ইরানের বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত রাখার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনড় অবস্থানের পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে। গত দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে বৃহস্পতিবার স্বর্ণের দামে ব্যাপক দরপতন ঘটেছে। যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বৃদ্ধি ঘিরে মুদ্রাস্ফীতির উদ্বেগ এবং যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমার সম্ভাবনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মাঝে সংশয় তৈরি হয়েছে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ২৬ মিনিট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬২২ দশমিক ৫৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৬৪৯ ডলারে নেমেছে।
দিনের শুরুতে ১৯ মার্চের পর সর্বোচ্চ দামে পৌঁছালেও ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যের পর ৪ শতাংশেরও বেশি দরপতন ঘটেছে মূল্যবান এই ধাতুর। তবে সব মিলিয়ে চলতি সপ্তাহে স্বর্ণের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বৃদ্ধির পথে আছে।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের বক্তব্যের পর তেলের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক হামলা চালিয়ে যাবে যুক্তরাষ্ট্র এবং এই সংঘাতের প্রধান কৌশলগত সব লক্ষ্য অর্জনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে ওয়াশিংটন। তার এই বক্তব্যে যুদ্ধবিরতির আশা করা বিনিয়োগকারীরা হতাশ হয়েছেন।
ন্যাটিক্সিসের বিশ্লেষক বার্নার্ড দাহদাহ বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই স্বর্ণের দামের সঙ্গে তেলের দামের একটি নেতিবাচক সম্পর্ক দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ট্রাম্পের মন্তব্যের পর তেলের দাম ৬ থেকে ৭ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বাজার ধারণা করছে, ফেডারেল রিজার্ভ হয়তো সুদের হার কমাবে না। আর এই আশঙ্কাই স্বর্ণের দামকে নিচের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সিএমইর ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে; এমন প্রত্যাশা বেড়ে গেছে। আগামী ডিসেম্বরে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা ট্রাম্পের ভাষণের আগের ২৫ শতাংশ থেকে কমে এখন ১৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
এছাড়া ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড এবং ডলার ইনডেক্স উভয়ই শক্তিশালী হয়েছে; যা সুদহীন সম্পদ হিসেবে পরিচিত স্বর্ণের আকর্ষণ কমিয়ে দিয়েছে।
জেফরিজের মালিকানাধীন ট্রেডু ডটকমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক নিকোস জাবোরাস এক নোটে বলেছেন, বিনিয়োগকারীদের কাছে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য স্বর্ণের চেয়ে এখন বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে ডলার। ফেডের দীর্ঘ সময়ের জন্য সুদের হার উচ্চ রাখার প্রত্যাশা স্বর্ণের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে কাঠামোগত চাহিদার কারণে এই মূল্যবান ধাতুটি আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় ফিরে নতুন রেকর্ড গড়তে পারে।
অন্যান্য ধাতুর মধ্যে স্পট রূপার দাম ৪ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ৭১ দশমিক ৪৪ ডলারে নেমেছে। যদিও দিনের শুরুতে এটি ৭ শতাংশেরও বেশি পড়ে গিয়েছিল। এছাড়া প্লাটিনামের দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ৯১৮ দশমিক ৩৮ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪৬৩ দশমিক ৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.