নগদের লেনদেনে নতুন রেকর্ড অর্জন

দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় মোবাইল আর্থিক সেবা নগদ চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) সর্বোচ্চ লেনদেনের নতুন রেকর্ড গড়েছে। শেষ হওয়া এই প্রান্তিকে ডাক বিভাগের সঙ্গে সম্পৃক্ত এই প্রতিষ্ঠানটি ১ লাখ ১১ হাজার ৩৫৫ কোটি ৩২ লাখ টাকার বেশি লেনদেন করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ দশমিক ৯৭ শতাংশ বেশি।

বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) কোম্পানিটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এ ছাড়া গ্রাহক সম্পৃক্ততা ও লেনদেনের সংখ্যায়ও এই সময়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। নগদের প্রতি সাধারণ গ্রাহকদের আস্থা বৃদ্ধির কারণে প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে স্থিতিশীল ও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি বজায় রেখে এগিয়ে চলেছে, যা কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির ধারাকে প্রতিফলিত করছে।

২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে নগদের লেনদেন ছিল ৯২ হাজার ৫৪ কোটি টাকা। পরের প্রান্তিকে সামান্য কমে ৯১ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকায় চলে আসে। তবে তৃতীয় প্রান্তিকে নগদের লেনদেন পুনরুদ্ধার হয়ে ৯২ হাজার ১২৫ কোটি টাকায় পৌঁছে যায়। আর বছরের শেষ প্রান্তিকে নগদ প্রথমবারের মতো এক প্রান্তিকে এক লাখ কোটি টাকা লেনদেনের মাইলফলক অর্জন করে। ওই প্রান্তিকে লেনদেন দাঁড়ায় ১ লাখ ২ হাজার ৩৮১ কোটি টাকা।

এমন শক্তিশালী পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে নগদের লেনদেন আরও বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ১১ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকায় পৌঁছায়, যা গত বছরের সর্বশেষ প্রান্তিকের তুলনায় ৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেশি।

মাস হিসেবে গত তিন মাসে লেনদেনের এই অঙ্ক ছিল যথাক্রমে—জানুয়ারিতে ৪০ হাজার ৩০১ কোটি টাকা। সে সময় যেকোনো মাসের হিসেবে এটি সর্বোচ্চ লেনদেনের অঙ্ক ছিল। মার্চে এসে লেনদেনের এই অঙ্কও ছাড়িয়ে ৪১ হাজার ৪৬৯ কোটি টাকায় পৌঁছে যায়। মাঝখানে নির্বাচনের সময় কয়েকদিন নগদসহ অন্যান্য মোবাইল আর্থিক সেবা অপারেটরগুলোর লেনদেনে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। ফলে তখন লেনদেনের অঙ্ক (২৯ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকা) কিছুটা কম ছিল।

লেনদেনের এই নতুন রেকর্ড গড়তে গিয়ে জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে বেশ কিছু নতুন মাইলফলক অর্জন করেছে নগদ। সর্বশেষ এই প্রান্তিকে নগদে যেকোনো সময়ের তুলনায় সবচেয়ে বেশি ব্যাংক অ্যাড মানি হয়েছে, সবচেয়ে বেশি পেমেন্ট হয়েছে, সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেন এবং ক্যাশ-ইন ও ক্যাশ-আউটেও এ সময় নতুন মাইলফলক গড়েছে নগদ। এর বাইরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সরকারি ভাতা ও উপবৃত্তি বিতরণ হয়েছে এই সময়ে।

নগদের এমন প্রবৃদ্ধি ও লেনদেনের ইতিবাচক ধারার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসক মো. মোতাসিম বিল্লাহ বলেন, “নগদে যেহেতু খরচ কম, আমাদের দেশের নিম্ন মধ্যবিত্ত ও গরিব মানুষের কাছে নগদ অনেক জনপ্রিয়। কারণ এক হাজার টাকায় ক্যাশ আউট চার্জ সাড়ে ছয় টাকা খরচ এখনো কম আছে। আমাদের দেশে বিদ্যমান মোবাইল আর্থিক সেবাগুলোর মধ্যে নগদ এখনো সবচেয়ে কম টাকায় ক্যাশ আউট করার সুযোগ দিচ্ছে।”

মোতাসিম বিল্লাহ আরও বলেন, “এ ছাড়া অন্যান্য সার্ভিস যেমন সেন্ড মানি ফ্রি, পাশাপাশি রেমিট্যান্সও সবচেয়ে কম খরচে গ্রহণ করা যাচ্ছে। ফলে নগদের প্রতি মানুষের আস্থা দিন দিন বাড়ছে। এই আস্থা বাড়ার ফলেই দিন দিন নিজেদের রেকর্ডগুলো প্রতিমাসে বা প্রতিকোয়ার্টারে ভাঙতে পারছে নগদ। এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আমরা ভবিষ্যতে আরও অনেক বেশি লেনদেন করতে সক্ষম হব বলে আমি বিশ্বাস করি।”

নগদ শুরু থেকেই মানুষের জন্য বিভিন্ন সেবা নিয়ে কাজ করেছে। যার মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব তৈরি হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতেও বড় অবদান রাখছে। প্রচলিত ব্যাংকিংয়ের বাইরে থাকা কোটি কোটি মানুষ নগদের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনে সম্পৃক্ত হয়েছে।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.