বীমা খাতে শৃঙ্খলা ও সুশাসন জোরদারে কঠোর তাগিদ

দেশের বীমা খাতের নানাবিধ দুর্বলতা তুলে ধরে শৃঙ্খলা ও সুশাসন জোরদারের কঠোর তাগিদ দিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যান মো আবদুর রহমান খান। তিনি বলেন, বীমা খাতে পেশাদারত্বের অভাব এবং চরম অব্যবস্থাপনার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই খাত নিয়ে মারাত্মক নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে।

বুধবার (১ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যান মো আবদুর রহমান খান বলেন, মোটর বীমা আগে আবশ্যিক ছিল, যা করতে মাত্র ২০০ থেকে ২৫০ টাকা লাগে। সেটিও এখন উঠে গেছে। এর মূল কারণ হচ্ছে বীমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে কোনো পেশাদারত্ব গড়ে ওঠেনি। পুরো বীমা খাত নিয়ে মানুষের মধ্যে নেতিবাচকতা এখন চরমে। তিনি আরও বলেন, একদিকে ব্যবসা নেই বলা হচ্ছে, অন্যদিকে বীমা কোম্পানির লাইসেন্সের জন্য এখনও বহু লোক তদবির করছেন।

বীমা খাতে দক্ষ জনবলের তীব্র অভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বীমা কোম্পানি আছে অথচ কোথাও কোনো অ্যাকচুয়ারির উপস্থিতি নেই। আমাদের দেশে অ্যাকচুয়ারি নিয়ে পড়াশোনা বা বিশেষজ্ঞ তৈরির সুযোগ নেই বললেই চলে। বাংলাদেশে মাত্র দুজন অ্যাকচুয়ারি রয়েছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, অনেক বীমা কোম্পানি গ্রাহকদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না। বিশেষ করে লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পাওনা টাকা পেতে গ্রাহকদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। মানুষ সারা জীবন প্রিমিয়াম দেয়, কিন্তু ম্যাচিউরিটির পর টাকা পায় না। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে অবসরে যাওয়ার পর কর্মীরাও তাদের পাওনা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

তিনি সতর্ক করে বলেন, বীমা খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা না গেলে করদাতাদের আস্থা ফিরে আসবে না। সুশাসন নিশ্চিত না হলে মানুষ ভাববে সরকার জোর করে বীমা কোম্পানিগুলোকে লাভবান করার চেষ্টা করছে। এ ধরনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর তিনি জোর দেন।

প্রাক বাজেট আলোচনায় অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা তাদের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.