কঠোর আর্থিক বাজেটের পরামর্শ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের

এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আগামী অর্থবছরের জন্য নতুন সরকারকে কঠোর আর্থিক বাজেট করার পরামর্শ দিয়েছেন।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটে অতিরিক্ত ব্যয় করার জন্য নতুন সরকারের আর্থিক সক্ষমতা সীমিত। বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যও চাপে রয়েছে। বৈশ্বিক অস্থিরতা আগের আর্থিক দুর্বলতাগুলোকে আরও প্রকট করেছে। তাই কঠোর আর্থিক বাজেট প্রণয়ন জরুরি এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় কঠোর হতে হবে।

মঙ্গলবার ধানমন্ডিতে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ সিপিডি এর সম্মেলনকেন্দ্রে নতুন সরকারের প্রথম বাজেটের জন্য ভাবনা শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিপিডির অতিরিক্ত পরিচালক গবেষণা তৌফিকুল ইসলাম খান এবং জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী নাজিবা মোহাম্মদ আলতাফ।

বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সরকারকে স্বল্পমেয়াদি রূপরেখা দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, দ্রুত তিন থেকে চার মাসের জন্য একটি রূপরেখা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি তিন বছরের জন্য মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো তৈরি করা যেতে পারে।

সরকারের ব্যয় কমাতে ভর্তুকি সামঞ্জস্য করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ভর্তুকির সুবিধা প্রকৃত দরিদ্র জনগোষ্ঠী পাচ্ছে কি না তা যাচাই করতে হবে এবং নগদ প্রণোদনা ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা উচিত।

বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্প এডিপি পর্যালোচনার জন্য টাস্কফোর্স গঠনের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে এডিপি পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। পুরোনো প্রকল্প পদ্ধতি অনুসরণ করলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।

অবাস্তব বাজেট না করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবসম্মত করতে হবে। বাজেটের আকার ছোট হলেও তা বাস্তবভিত্তিক হওয়া জরুরি।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন, কর অবকাশের সুবিধা কমিয়ে করজাল সম্প্রসারণ, ডিজিটাল পদ্ধতিতে কর আদায় এবং কমপ্লায়েন্স নিশ্চিতের মাধ্যমে রাজস্ব বাড়ানো সম্ভব। পাশাপাশি সম্পদের ওপর কর আরোপ এবং এনবিআরকে দুই ভাগ করার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার প্রয়োজন রয়েছে।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.