বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা আফজাল রিমান্ডে

জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি হত্যা মামলায় গ্রেফতার বরখাস্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আফজাল নাছেরকে (৬১) ছয় দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

সোমবার (৩০ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালত এ আদেশ দেন। এদিন আফজাল নাছেরকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের এসআই কফিল উদ্দিন। শুনানি শেষে আদালত ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফ্যাসিস্ট হাসিনা চিকিৎসা না দিয়ে কারাগারে রাখে। ওই সময় নাছের একটি হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছিলেন। নিজের ক্ষমতাবলে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা দেননি তিনি। অনেকভাবে এই আসামি ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে ক্ষমতায় থাকতে সাহায্য করে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে সাতদিনের রিমান্ড দেওয়া হোক।

অন্যদিকে, আসামি পক্ষের আইনজীবী হেলাল উদ্দিন আসামির রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন।

আবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন (৪০) বেলা ৩টা ২০ মিনিটে ছাত্র-আন্দোলনের পক্ষে মিরপুরর ১০ নম্বরের ফলপট্টিতে অবস্থান নেন। ওই সময় এজাহারনামীয় আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ৫০০ থেকে ৭০০ জন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সন্ত্রাসীরা মো. আফজাল নাছেরের নির্দেশে নির্বিচারে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে দেলোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়ে। পরে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ২০ জুলাই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত সিটি কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ জুলাই দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার মামলা করেন।

এতে আরও বলা হয়, সন্দিগ্ধ আসামি মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামি নাছেরকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন।

এর আগে, রবিবার গভীর রাতে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসের ১২ নম্বর সড়কের ৮৬৪ নম্বর বাসা থেকে নাছেরকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.