ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্থল সেনাদের ইরানে আসার অপেক্ষায় আছে তাদের সেনারা। রোববার (২৯ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
স্পিকার বাঘের গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে আলোচনার প্রস্তাব দিচ্ছে, কিন্তু গোপনে স্থল হামলার পরিকল্পনা করছে। তিনি বলেন, “শত্রুরা প্রকাশ্যে আলোচনার বার্তা দিচ্ছে। অপরদিকে গোপনে স্থল হামলার পরিকল্পনা করছে। আমাদের সেনারা মার্কিন সেনাদের জ্বালিয়ে দিতে তাদের আসার অপেক্ষায় ময়দানে আছে।”
এর আগে রোববার সকালে মার্কিন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানে কয়েক সপ্তাহব্যাপী স্থল হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আগেরদিন শনিবার, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইউএসএস ত্রিপোলী উভচর যুদ্ধজাহাজে সাড়ে তিন হাজার মেরিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে।
ইরানে স্থল হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্য ও কৌশল
ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্থল হামলার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হতে পারে খার্গ দ্বীপ। মাত্র ৯ বর্গমাইলের এই দ্বীপ ইরানের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র, যেখানে দেশটি ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করে। দ্বীপটি হারালে ইরানের জন্য বড় ধাক্কা হবে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং মাইন ব্যবস্থার কারণে মার্কিন সেনাদের জন্য দ্বীপ দখল করা সহজ হবে না। হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত কাশেম, লারাক ও আবু মুসা দ্বীপগুলোও সম্ভাব্য হামলাস্থল।
গার্ডিয়ান আরও জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো সেনাদের আরেকটি দায়িত্ব হতে পারে—ইরানের ৪৪০ কেজি সমৃদ্ধকরণকৃত ইউরেনিয়াম নিরাপদে অপসারণ। যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা রয়েছে বিশাল আকাশ অভিযান চালিয়ে এই ইউরেনিয়ামগুলো নিয়ে আসার।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.