সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন ফের রিমান্ডে

মানবপাচার আইনের এক মামলায় অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ও ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে ফের ছয় দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রবিবার (২৯ মার্চ) পল্টন থানার এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পর ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. রায়হানুর রহমান সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। এর আগে একই মামলায় গত ২৪ মার্চ তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। ওই রিমান্ড শেষে আবারও তাকে নতুন করে ছয় দিনের রিমান্ডে পাঠানো হলো।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী ওহিদুল ইসলাম সজীবসহ অন্যরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, আগের পাঁচ দিনের রিমান্ডে কিছু তথ্য পাওয়া গেলেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আসামি এড়িয়ে গেছেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে পুনরায় রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, বাদী আলতাব খান ‘আফিয়া ওভারসীজ’ নামে একটি রিক্রুটিং এজেন্সির স্বত্বাধিকারী। অভিযোগ রয়েছে, একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট বিদেশে শ্রমবাজারে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে সাধারণ ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে রাখে। সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয় ৭৯ হাজার ৪৯০ টাকা হলেও, এই চক্র প্রতি শ্রমিকের কাছ থেকে অতিরিক্ত দেড় লাখ টাকা আদায় করত।

অভিযোগ অনুযায়ী, বাদীকে ব্যবসা চালিয়ে যেতে বাধ্য করা হয় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কাজ করতে। এতে ৮৪১ জন কর্মীর বিপরীতে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক ১২ কোটি ৫৬ লাখ ১ হাজার টাকা আদায় করা হয়। পাশাপাশি সিন্ডিকেটের কারণে তার আরও ২০ কোটি টাকার ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া অভিযোগে বলা হয়, এই চক্র বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সির কাছ থেকে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা চাঁদা আদায় করেছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর পর তাদের আটকে রাখা, কাজ না দেওয়া এবং বেতন না দিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। অনেক শ্রমিক মানবেতর পরিস্থিতিতে শ্রম শোষণের শিকার হয়েছেন।

প্রসঙ্গত, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী চৌধুরীকে রাজধানীর পল্টন থানায় দায়ের করা একটি মানবপাচার ও জালিয়াতির মামলায় গত ২৪ মার্চ গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে মোট ১১টি মামলা আছে।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.