কৃষ্ণসাগরে তুরস্কের তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলা, দায় স্বীকার করেনি কেউ

তুরস্কের পরিবহনমন্ত্রী আবদুল কাদির উরালুগ্লু জানিয়েছেন, কৃষ্ণসাগরে তুরস্কের পরিচালিত একটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলা হয়েছে। হামলার সময় জাহাজটিতে তুরস্কের ২৭ জন নাবিক ছিলেন।

তুর্কি সংবাদ সংস্থা গণমাধ্যম জানিয়েছে, এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

তুরস্কের আরেক সংবাদমাধ্যম গণমাধ্যম জানিয়েছে, জাহাজটির মালিক তুরস্কের প্রতিষ্ঠান ‘বেসিকতাস’। তবে এটি সিয়েরা লিওনের পতাকাবাহী। জাহাজ চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণ করে সংবাদমাধ্যমটি আরও জানায়, ট্যাংকারটি রাশিয়ার নভোরোসিস্ক বন্দর থেকে প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে রওনা হয়েছিল।

আবদুল কাদির উরালুগ্লু বলেন, ‘আমাদের ধারণা, জাহাজের ইঞ্জিন রুম লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। হামলাটি আকাশ থেকে ড্রোনের মাধ্যমে নয়, বরং একটি চালকবিহীন নৌযান (আনম্যানড সারফেস ভেহিকল) দিয়ে করা হয়েছে।’

ট্যাংকারটির ওপর হামলা তুরস্কের জলসীমায় হয়েছে কি না, তা মন্ত্রী নির্দিষ্ট করে জানাননি। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বসফরাস প্রণালি থেকে ৩০ কিলোমিটারের কম দূরত্বে এই হামলা হয়েছে।

উরালুগ্লু আরও বলেন, ‘এটি বাইরে থেকে ঘটানো কোনো বিস্ফোরণ বলে মনে হচ্ছে। বিশেষ করে জাহাজের ইঞ্জিন রুম লক্ষ্য করে এ হামলা করা হয়েছে, যাতে জাহাজটি পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে।’

ঘটনাস্থলে প্রয়োজনীয় ইউনিট পাঠানো হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানান তুর্কি পরিবহনমন্ত্রী।

দায় স্বীকার করেনি কেউ

তুর্কি সংবাদপত্র গণমাধ্যম জানায়, এই হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। কৃষ্ণসাগর দিয়ে সাধারণত জ্বালানি তেল ও শস্যের জাহাজ চলাচল করে। গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথে এমন হামলার ঘটনায় সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

আঞ্চলিক পরিস্থিতি

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যুদ্ধ এখন পঞ্চম সপ্তাহে গড়িয়েছে। এ যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হামলা চলছে এবং হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই কৃষ্ণসাগরে এই হামলার ঘটনা ঘটল।

তবে কৃষ্ণসাগরের এ ঘটনাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সম্ভাব্য হামলার আওতা এখন ভৌগোলিকভাবে আরও ছড়িয়ে পড়ছে। তুরস্ক এই সংঘাত কমাতে শুরু থেকেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে আকাশসীমা রক্ষায় প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়ে আসছেন।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.