হরমুজে অবরোধের প্রভাবে তেলের দাম একদিনেই বেড়েছে ৩ শতাংশের বেশি

হরমুজ প্রণালিতে ইরান অবরোধ জারি থাকায় বাড়ছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। গতকাল সোমবারের তুলনায় মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বড়েছে ৩ শতাংশেরও বেশি।

এক প্রতিবেদনে গণমাধ্যম জানিয়েছে, অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দুই ব্র্যান্ড ব্রেন্ট ক্রুড এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)-উভয়েরই দাম বেড়েছে। আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড বিক্রি হচ্ছে ১০৩ দশমিক ২৮ ডলারে এবং ডব্লিউটিআই প্রতি ব্যারেল বিক্রি হচ্ছে ৯৬ দশমিক ৮৫ ডলারে। আগের দিন সোমবারের তুলনায় আজ মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম (ব্যারেলপ্রতি) ৩ দশমিক ১ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই এর দাম (ব্যারেলপ্রতি) ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।

জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষক বিভিন্ন সংস্থা জানিয়েছে, বাজারের এই চড়াভাবের প্রধান কারণ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধ। এই অবরোধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে সামনের দিনগুলোতে বাজারে বড় অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, আরব সাগর এবং পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ রুট। প্রতিদিন বিশ্বে যত তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে, সেসবের ২০ শতাংশই এই রুট ব্যবহার করে।

হরমুজ প্রণালিকে ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’-ও বলা হয়, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এই পথ ব্যবহার করেই তাদের তেল রপ্তানি করে। হরমুজ না থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সহজে পশ্চিমা বিশ্বে সরবরাহ করা যেতো না।

গত ২৮ তারিখ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করে ইরান। বিভিন্ন দেশের পতাকাবাহী ট্যাংকার জাহাজে হামলাও চালানো হয়েছে। ১৫ দিন ধরে হরমুজ প্রণালি চলাচলের সময় ইরানি হামলার শিকার হয়েছে বিভিন্ন দেশের পতাকাবাহী ১২টিরও বেশি ট্যাংকার জাহাজ।

একের পর এক হামলার কারণে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল অনিয়মিত হয়ে পড়েছে, যার প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক বাজারে।

বৈশ্বিক জ্বালানির বাজার পর্যবেক্ষক সংস্থা ফিলিপ নোভার জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক প্রিয়াঙ্কা সাচদেব গণমাধ্যমকে বলেছেন, “আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের পরিস্থিতি বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করছে।”

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.