ইরানের দুই জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা হত্যার দাবি ইসরায়েলের

ইসরায়েল জানিয়েছে, ইরানের সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের ওপর ধারাবাহিক হামলার অংশ হিসেবে আরও দুই জ্যেষ্ঠ ইরানি গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার তেহরানে বিমান হামলায় আবদুল্লাহ জালালি-নাসাব ও আমির শরীয়ত নিহত হয়েছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, এই দুই কর্মকর্তা খাতাম আল-আনবিয়া ইমার্জেন্সি কমান্ডের গোয়েন্দা পরিদপ্তরের দায়িত্বে ছিলেন। ইসরায়েলের মতে, তাদের মৃত্যু ইরান সরকারের কমান্ড ও কন্ট্রোল কাঠামোর জন্য বড় ধরনের ধাক্কা।

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর সংশ্লিষ্ট একটি টেলিগ্রাম চ্যানেল জালালি-নাসাবের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করলেও আমির শরীয়তের অবস্থা সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেনি।

ইসরায়েল জানিয়েছে, দুই সপ্তাহ আগে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পশ্চিম ও মধ্য ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে তারা ৪০০ দফার বিমান হামলা চালিয়েছে। ইরানের অন্যান্য স্থানে হামলাগুলো পরিচালনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবারই ইসরায়েল ২০০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে, যার মধ্যে রয়েছে ডজনখানেক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অস্ত্র মজুত কেন্দ্র।

গত শুক্রবার ইসরায়েল ইরানের প্রধান মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রেও হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, এই কেন্দ্রটি সামরিক স্যাটেলাইটের কাজ পরিচালনা করত এবং নজরদারি ও আঞ্চলিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দিকনির্দেশনায় ব্যবহৃত হতো।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান তাদের কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কমান্ডারের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আবদুর রহিম মুসাভি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ও সশস্ত্র বাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ আজিজ নাসিরজাদে এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের প্রধান কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর। এছাড়া গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মারা যান ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.