ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধের ১২তম দিনে এক চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে তাদের ভূখণ্ডে থাকা সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
যুদ্ধের শুরুতেই ইসরায়েলি হামলায় পিতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন মোজতবা খামেনি। বৃহস্পতিবার দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের প্রথম বিবৃতিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ওই বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি জাতীয় ঐক্যেরও ডাক দেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, শত্রুপক্ষকে চাপে রাখতে বিশ্বের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হবে।
মোজতবা খামেনি দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, অন্যথায় সেগুলোতে হামলা অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, ‘ইরান তার প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্বে বিশ্বাসী, কিন্তু অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিগুলো আমাদের লক্ষ্যবস্তু হবে।’
এ সময় তিনি আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, ইয়েমেনের যোদ্ধারা তাদের দায়িত্ব পালন করবে এবং ইরাকের গোষ্ঠীগুলোও ‘ইসলামি বিপ্লবকে’ সহায়তা করতে প্রস্তুত।
দেশ যখন চতুর্মুখী হামলার শিকার, তখন ইরানকে বিভক্তির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য সামরিক বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান খামেনি। তিনি বলেন, ‘আমি সেই সাহসী যোদ্ধাদের কৃতজ্ঞতা জানাই যারা এই কঠিন সময়ে অতুলনীয় কাজ করছেন। ইরান তার লড়াই চালিয়ে যাবে।’
৩৭ বছর ইরান শাসন করার পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন আলি খামেনি। এরপর গত রোববার ইরানের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ সর্বসম্মতিক্রমে তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে উত্তরসূরি হিসেবে নিয়োগ দেয়।
তেহরান থেকে গণমাধ্যমের প্রতিনিধি তৌহিদ আসাদি জানান, নতুন নেতার এই বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তিনি হরমুজ প্রণালীকে দরকষাকষির প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করবেন এবং যুদ্ধের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দেবেন।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.