ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হামলায় ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়লেও তিনি নিরাপদ ও সুস্থ আছেন। বুধবার দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ছেলে ও সরকারের উপদেষ্টা ইউসুফ পেজেশকিয়ান বলেছেন, সর্বোচ্চ নেতা বর্তমানে পুরোপুরি সুস্থ আছেন।
এর আগে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত ও তার ছেলে মোজতবা খামেনি আহত হন। এই খবর প্রকাশের পর ইরানের পক্ষ থেকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নিরাপদ ও সুস্থ আছেন বলে জানানো হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক স্টোরিতে ইউসুফ পেজেশকিয়ান বলেছেন, “আমি খবর পেয়েছিলাম মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন। তার সঙ্গে যোগাযোগ আছে এমন কয়েকজন বন্ধুর কাছে আমি এই বিষয়ে খোঁজ নিয়েছি। তারা আমাকে জানিয়েছেন, আল্লাহর রহমতে তিনি নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।”
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে মোজতবা খামেনিকে চলমান “রমজান যুদ্ধের আহত যোদ্ধা” হিসেবে অভিহিত করলেও তার আঘাতের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু জানায়নি। তবে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস বলেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় মোজতবা খামেনির বাবা ও তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। একই হামলায় মোজতবা খামেনির পায়ে আঘাত লাগে।
তিন দিন আগে প্রয়াত বাবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির স্থলাভিষিক্ত হওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনি জনসম্মুখে আসেননি। এমনকি গত রোববার সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নাম ঘোষণার পর থেকে তিনি এখনও জাতির উদ্দেশে কোনো ভাষণ দেননি কিংবা কোনো লিখিত বিবৃতিও প্রকাশ করেননি। এই পরিস্থিতিতে তার স্বাস্থ্য ও অবস্থান নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সংঘাতের প্রথম দিনেই খামেনি আহত হয়েছিলেন। বর্তমানে ইরানের অত্যন্ত সুরক্ষিত গোপন এক স্থানে অবস্থান করছেন; যেখানে যোগাযোগের সুযোগ সীমিত। পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনজন ইরানি এবং দুজন ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে গণমাধ্যমটি।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.