মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের প্রভাব মোকাবিলা এবং নির্মাণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে তিন হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিলসহায়তা চেয়েছে আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। পাশাপাশি গৃহঋণের সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনারও অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।
আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান রিহ্যাবের সভাপতি মো. ওয়াহিদুজ্জামান।
রিহ্যাবের সভাপতি বলেন, চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে আবাসন খাতেও। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় খাতটিকে সচল রাখতে বিশেষ তহবিল প্রয়োজন। এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে তিন হাজার কোটি টাকার তহবিলসহায়তার আবেদন করা হয়েছে। গভর্নর বিষয়টি মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন।
রিহ্যাব সভাপতি আরও বলেন, খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থান মানুষের মৌলিক চাহিদা। এই চাহিদা পূরণে সাধারণ মানুষের জন্য স্বল্প সুদের গৃহঋণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন কারণে গৃহঋণের সুদের হার বেশি হওয়ায় অনেকের পক্ষে বাড়ি কেনা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই গৃহঋণের সুদের হার এক অঙ্কের ঘরে নামিয়ে আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংগঠনটি আরও কয়েকটি প্রস্তাব দেয়। এর মধ্যে আছে পরিবেশবান্ধব ভবন, সৌরবিদ্যুৎ ও পরিবেশবান্ধব নির্মাণে বিশেষ অর্থায়ন সুবিধা প্রদান, জেলা ও উপজেলা শহরে আবাসন প্রকল্পে বিশেষ অর্থায়নের ব্যবস্থা এবং ঢাকার ওপর চাপ কমাতে জেলা ও উপজেলা শহরে কম সুদে আবাসন ঋণসুবিধা প্রদান।
রিহ্যাবের মতে, আবাসন খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত এবং এর সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে ২৫০টির বেশি শিল্প খাত জড়িত রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সরবরাহ করা তালিকায় আবাসন বা নির্মাণ খাতকে অনুৎপাদনশীল খাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে এবং এখানে কোনো শ্রমিক অসন্তোষ নেই। তাই আবাসন খাতকে উৎপাদনশীল খাত হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানানো হয়েছে।
রিহ্যাব মনে করে, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে আবাসন খাত আরও গতিশীল হবে, সাধারণ মানুষের জন্য বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনা সহজ হবে। এতে জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.