বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার হস্তান্তর ও অর্থ প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া আরও সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংক বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার হস্তান্তর এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ দেশে প্রত্যাবর্তন বা রিপ্যাট্রিয়েশন প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য একটি নতুন মাস্টার সার্কুলার জারি করেছে।

নতুন মাস্টার সার্কুলারের মাধ্যমে বেসরকারি ও পাবলিক লিমিটেড কিন্তু শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয়, এমন কোম্পানিগুলোতে অ-নিবাসী বিনিয়োগকারীদের শেয়ার হস্তান্তর এবং বিক্রয়মূল্য প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করা হয়েছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার মন্ডল এই তথ্য জানান।

সার্কুলারটি ৮ মার্চ ইআইডি সার্কুলার নং ০১ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। এতে ২০১৮ ও ২০২০ সালে জারি করা পূর্ববর্তী নির্দেশনাগুলো একত্রিত ও হালনাগাদ করা হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রক্রিয়াটি আরও পূর্বানুমানযোগ্য এবং প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক সুরক্ষাসহ কার্যকর করা হয়েছে।

সার্কুলারে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোর ক্ষমতা বৃদ্ধি, লেনদেনের সীমা বাড়ানো, মূল্যায়ন ও প্রতিবেদন প্রক্রিয়া সহজ করা, দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের সময়সীমা নির্ধারণ এবং ব্যাংকের অভ্যন্তরে মূল্যায়ন ও অর্থ প্রত্যাবর্তন সংক্রান্ত আবেদন পর্যালোচনার জন্য অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠনের মতো সংস্কার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার হস্তান্তর ও অর্থ প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া সহজ করতে বিডা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে একটি উচ্চপর্যায়ের ক্যাপিটাল রিপ্যাট্রিয়েশন কমিটি গঠন করা হয়েছিল। বিডার নির্বাহী সদস্য নাহিয়ান রহমান রচি’র নেতৃত্বে কমিটি গত বছরের ১৯ নভেম্বর সংস্কার প্যাকেজ চূড়ান্ত করে।

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, “বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের প্রতিটি ধাপে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগোতে পারলে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য ভালো পরিবেশ তৈরি হয়। অনুমোদনের জটিলতা কমানো, বিক্রয়লব্ধ অর্থ সহজে দেশে ফেরত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্রের প্রক্রিয়া সরল করা বিদেশি বিনিয়োগের জন্য আস্থার পরিবেশ গড়ে তোলে।”

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ছাড়াই অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো শেয়ার হস্তান্তর ও অর্থ প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবে। ১ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের ক্ষেত্রে স্বাধীন মূল্যায়ন ছাড়াই ক্রেতা ও বিক্রেতার যৌথ ঘোষণার ভিত্তিতে লেনদেন করা যাবে। ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের জন্যও নির্ধারিত মূল্যায়ন পদ্ধতি অনুসরণ করে এডি ব্যাংকগুলো কার্যকরভাবে প্রক্রিয়া করতে পারবে।

অডিট করা আর্থিক বিবরণীর ভিত্তিতে নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) অনুযায়ী চুক্তির মূল্য নির্ধারিত হলে এডি ব্যাংক সরাসরি লেনদেন প্রক্রিয়া করতে পারবে। এছাড়া নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে শেয়ার হস্তান্তর ৪৫ দিনের মধ্যে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ প্রত্যাবর্তন পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। প্রতিটি এডি ব্যাংককে অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন করে মূল্যায়ন ও অর্থ প্রত্যাবর্তন সংক্রান্ত আবেদন পর্যালোচনা করতে হবে।

এডি ব্যাংকগুলো যে লেনদেন সম্পন্ন করবে, তার বিষয়ে ১৪ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এসব পদক্ষেপের ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগ থেকে প্রস্থান প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং বাংলাদেশের সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিবেশ আরও উন্নত হবে।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.