জনসাধারণকে নতুন নোট না দিলেও কর্মকর্তাদের জন্য বরাদ্দ বাংলাদেশ ব্যাংকের

বাংলাদেশ ব্যাংক সাধারণ মানুষের জন্য নতুন নোট না ছাড়ার ঘোষণা দিলেও গত ৩ মার্চ এক অভ্যন্তরীণ আদেশের মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন নোটের বরাদ্দ নিশ্চিত করেছে। গত রবিবার (৮ মার্চ) থেকে তারা এই নোট পেতে শুরু করেছেন।

পদমর্যাদা অনুযায়ী বরাদ্দকৃত টাকার পরিমাণ:

উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা: নির্বাহী পরিচালক থেকে যুগ্ম পরিচালক পদমর্যাদার কর্মকর্তারা প্রত্যেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নতুন নোট নিতে পারবেন।

কর্মচারী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী: তারা প্রত্যেকে সর্বোচ্চ ৬৮ হাজার টাকা পর্যন্ত নতুন নোট নিতে পারবেন।

এই নতুন নোট সংগ্রহের প্রক্রিয়া ৮ মার্চ থেকে শুরু হয়ে ১২ মার্চ পর্যন্ত চলবে।

সমালোচনার মুখে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা করছেন খোদ ব্যাংকেরই অনেক কর্মকর্তা। সাধারণ মানুষ নতুন নোট ছাড়াই ঈদ করবে, অথচ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা নিজেদের জন্য বিপুল অংকের নোটের ব্যবস্থা করে নিয়েছেন।

কিছু কর্মকর্তা ব্যাংকিং খাতের সংস্কার চাইলেও নিজেদের সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আনতে নারাজ। নগদ টাকার ব্যবহার কমানোর কথা বলা হলেও তারা নিজেরাই বিপুল পরিমাণ নগদ নোট গ্রহণ করছেন।

অনেক কর্মকর্তা তাদের বেতন-ভাতার চেয়েও বেশি নতুন নোট নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই নোটগুলো অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে ফুটপাতের নতুন নোট ব্যবসায়ীদের কাছে চলে যেতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সংবাদ মাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, ঈদের আগে সাধারণ বাজারে নতুন নোট ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। ফলে এবার সাধারণ শিশু-কিশোরদের হাতে নতুন টাকার ঈদ সেলামি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এই তথ্য গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করা হয়েছে।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.