নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে সরকার। বৈষম্যহীন ও মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য নিয়ে প্রণীত এই কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরতে আগামীকাল সোমবার (৯ মার্চ) বেলা ১১টায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বক্তব্য দেবেন। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির পর সুস্থ হয়ে আজ রোববার (৮ মার্চ) থেকে পুনরায় অফিস শুরু করেছেন অর্থমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন ও কর্মসূচির লক্ষ্য
আগামী ১০ মার্চ রাজধানীর কড়াইল বস্তি সংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি মাঠে এই কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সাথে দেশের আরও ১৪টি স্থানে একযোগে এ কার্যক্রমের সূচনা করা হবে। ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’—এই ধারণাকে সামনে রেখে কর্মসূচিটি সাজানো হয়েছে।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও স্মার্ট কার্ড
বর্তমানে ২৩টি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৯৫টির বেশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু থাকলেও সমন্বয়ের অভাব ও প্রকৃত দরিদ্রদের বাদ পড়ার মতো সমস্যা রয়েছে। ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলে এসব সমস্যার সমাধান করা হবে। উপকারভোগী নির্বাচনে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট (পিএমটি)’ স্কোরিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে।
সুবিধাভোগী ও আর্থিক সহায়তা
নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে কার্ডটি পরিবারের নারী প্রধান বা মায়ের নামে ইস্যু করা হবে। পাইলট পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিটি পরিবার মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ সহায়তা পাবে। এই অর্থ সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সুবিধাভোগীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে জমা হবে। এছাড়া একই স্মার্ট কার্ড ও ওটিপি (OTP) যাচাইকরণের মাধ্যমে সাশ্রয়ী খাদ্য সহায়তাও পাওয়া যাবে।
কারা পাবেন এই সুবিধা?
যাদের গ্রামীণ এলাকায় বসতভিটাসহ আবাদি জমি সর্বোচ্চ ০.৫০ একর, তারা এই সুবিধার আওতাভুক্ত হবেন। তবে সরকারি চাকরিজীবী, পেনশনভোগী, বড় ব্যবসায়ী বা গাড়ি-এসি’র মতো বিলাসবহুল সম্পদের মালিকরা এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন না।
বাজেট ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
পাইলট প্রকল্পের জন্য ২ কোটি ১০ লাখ ৭২ হাজার ৩২৫ টাকা বাজেট ধরা হয়েছে, যার ৭৭ শতাংশ অর্থ সরাসরি ৬ হাজার ৫০০ দরিদ্র পরিবারের হাতে নগদ সহায়তা হিসেবে তুলে দেওয়া হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে একে একটি ‘সর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড’-এ রূপান্তর করা এবং ২০২৮ সালের মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ জিডিপি-র ৩ শতাংশে উন্নীত করা। একটি গণমাধ্যমে এই পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করা হয়েছে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.