দেশে সরকারি ২৫টি পাটকল বন্ধ, ৭টি পুনরায় চালুর উদ্যোগ

দেশে সরকারি ২৫টি পাটকলের সবগুলোই বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে সাতটি শিগগিরই পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সচিবালয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমি এ তথ্য জানান। জাতীয় পাট দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ৬ মার্চ অনলাইনে কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন।

সচিব বিলকিস জাহান জানান, বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) আওতায় ২৫টি পাটকল রয়েছে। বর্তমানে সবগুলো বন্ধ, এর মধ্যে ১৪টি দীর্ঘমেয়াদি ইজারার আওতায় আনা হয়েছে এবং আরও সাতটির পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া চলছে। নতুন উদ্যোগে এসব পাটকল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে।

তিনি আরও জানান, প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যাগ ব্যবহারে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এবং জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থার সহযোগিতায় পাটজাত ব্যাগ ব্যবহারের প্রচার বাড়ানো হচ্ছে। সম্প্রতি ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় পাট ও জুট কটন ব্যাগ ব্যবহার করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি করতে অনেক জায়গায় ভর্তুকি মূল্যে ব্যাগ বিক্রি করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, সরকারি সহায়তা কার্যক্রমেও পাটের ব্যাগ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ত্রাণ ও খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে চাল, ডালসহ অন্যান্য পণ্য বিতরণে পাটের ব্যাগ ব্যবহারের বিষয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয় ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

তিনি আরও জানান, কাঁচা পাট রপ্তানি কমিয়ে পাটের তৈরি পণ্য (ফিনিশড প্রোডাক্ট) উৎপাদনে জোর দেওয়া হবে। উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দিতে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার, সনদ ও প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় পাটশিল্পের প্রতিবন্ধকতা দূর করে উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানোর পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

পাটকল পুনরায় চালুর সময়সীমা সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্দিষ্ট সময় এখনই জানানো সম্ভব নয়, তবে নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী দ্রুত এসব মিল চালুর লক্ষ্য রয়েছে। অতীতে দীর্ঘদিন লোকসান হওয়ায় সরকার নিজে পরিচালনা না করে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দিচ্ছে।

সচিব জানান, পাট থেকে তৈরি তথাকথিত সোনালি ব্যাগ প্রকল্প বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। বড় পরিসরে উৎপাদনের পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে, কারণ ব্যবহৃত কিছু রাসায়নিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.