মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত: চরম সংকটের মুখে ভারত

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের পর জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে ভারত। ভারতের মোট তেল আমদানির ৫৫ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে, যার পরিমাণ দৈনিক প্রায় ২৭ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল। আর তাই বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত বর্ধনশীল তেলের বাজারগুলোর মধ্যে অপর্যাপ্ত মজুত ব্যবস্থার কারণে ভারতই সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়তে পারে।

তুরস্কের সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড এ খবর জানিয়েছে।
ওয়াশিংটনের চাপে রুশ তেল আমদানি কমিয়ে দেওয়ার পর ২০২২ সালের শেষভাগ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর ভারতের এই নির্ভরতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে এ সংকট শুরু হবার পর থেকে নরেন্দ্র মোদির জাদু এখন আর কাজে আসছে না।

এশিয়ার দুই শীর্ষ জ্বালানি আমদানিকারক দেশ চীন ও ভারত তাদের মোট চাহিদার প্রায় অর্ধেক তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে। তবে মজুতের দিক থেকে প্রতিবেশী চীনের তুলনায় ভারত অনেক পিছিয়ে।

পণ্য গবেষণা সংস্থা আইসিআইএসের জ্বালানি ও রিফাইনিং বিভাগের পরিচালক অজয় পারমার বলেন, চীনের হাতে অন্তত ছয় মাসের অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে। সে তুলনায় ভারতের মজুত অনেক কম, যা দেশটিকে বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

সম্ভাব্য এ সংকট মোকাবিলায় ভারত বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহের চেষ্টা করতে পারে। সোমবার দেশটির কেন্দ্রীয় তেল মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে জানিয়েছে, সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় রুশ তেল আমদানিতে আরোপিত ২৫ শতাংশ ট্যারিফ ছাড় দেবে কিনা, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, তেলের ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ন্ত্রণে মঙ্গলবার ট্রেজারি ও জ্বালানি বিভাগ থেকে নতুন পদক্ষেপ ঘোষণা করা হবে।

এদিকে ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ফলে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। বিশ্বের মোট তেলের পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই পথ দিয়ে সরবরাহ করা হয়। এ ঘটনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম মঙ্গলবার প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়েছে। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এই দামকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এছাড়াও এশিয়ার দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া তাদের চাহিদার যথাক্রমে ৯৫ ও ৭০ শতাংশ তেল এই অঞ্চল থেকে নিলেও তাদের মজুত ব্যবস্থা ভারতের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। জাপানের হাতে ২৫৪ দিন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার হাতে ২০৮ দিনের মজুত রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের তেলের বড় ক্রেতা না হলেও হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার নেতিবাচক প্রভাব তারা এড়াতে পারবে না। বিশেষ করে ইউরোপ বিমান চলাচলের জ্বালানি বা জেট ফুয়েল সংকটে পড়তে পারে, কারণ তাদের মোট আমদানির ৪৫ শতাংশই আসে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.