সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সেবা ডিজিটাল মাধ্যম ছাড়া দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কোনো সেবা ভবিষ্যতে আর ডিজিটাল মাধ্যম ছাড়া দেওয়া হবে না।

এ তথ্য তিনি বুধবার রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘লুকিং ইনটু বাংলাদেশ’স ডেভেলপমেন্ট: প্রায়োরিটি ফর দ্যা নিউলি ইলেক্টেড গভর্নমেন্ট ইন দ্যা শর্ট টু মিডিয়াম টার্ম’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জানিয়েছেন। অনুষ্ঠানে গণমাধ্যম ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, সরকার ‘ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার’-এর দিকে যাচ্ছে এবং এর মূল ভিত্তি হবে ইন্টার-অপারেবিলিটি (inter-operability)। অর্থাৎ সব সেবা ও ডাটাবেইস একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। সরকারের লক্ষ্য হলো—ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ড (One Citizen, One Card)। এর ফলে ভাতা ও অন্যান্য সেবা লিকেজ (leakage) রোধ করা সম্ভব হবে।

তিনি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বর্তমানে তিনটি বড় সমস্যা উল্লেখ করেন—যার থাকার কথা ছিল, তিনি তালিকাভুক্ত হননি (exclusion error), যার থাকার কথা ছিল না, তিনি তালিকাভুক্ত হয়েছেন (inclusion error), এবং কর্মসূচিগুলোর ছড়ানো ও খণ্ডিত অবস্থা (fragmentation)। রাশেদ আল মাহমুদ বলেন, ডিজিটাল কার্ড ও একক সনাক্তকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে এসব সমস্যা দূর করা সম্ভব।

তিনি ভাতা ও সামাজিক সুরক্ষায় সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, প্রলম্বিত মূল্যস্ফীতির কারণে মধ্যবিত্ত নিম্ন মধ্যবিত্তে, এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাচ্ছে। সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ উদ্যোগ নারীকেন্দ্রিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে সর্বজনীন করা সম্ভব হবে।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, কর ব্যবস্থাপনায় সরকারকে এলটিইউ নির্ভর কর আদায়ের রোগ (LTTU) থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সীমিত সংখ্যক বড় করদাতার ওপর নির্ভর করে রাজস্ব আহরণ টেকসই নয়। সরকারের লক্ষ্য অপচয় রোধ করা। বিদ্যুৎ খাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি টেকসই নয়; চুক্তি পুনঃআলোচনা, সিস্টেম লস কমানো এবং দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজীজ রাসেল, ডিসিসিআইর সাবেক সভাপতি শামস মাহমুদ, বেসিসের সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম, বেসিসের সাবেক সভাপতি ও বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী ফাহিম মাশরুর, পিআরআই ভাইস চেয়ারম্যান ড. সিদ্দিক আহমেদ, ইআরএফ সভাপতি দৌলত আক্তার মালা ও পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাশরুর রিয়াজ।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.