দুদক চেয়ারম্যান ও ২ কমিশনারের পদত্যাগ

 

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন ও দুই কমিশনার। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পদত্যাগপত্র জমা দেন তারা।

পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে বের হয়ে যাওয়ার সময় কমিশনার মিঞা মহাম্মদ আলী আকবর আজিজী বলেন, কোনো চাপ নয়, নিয়মতান্ত্রিকভাবে পদত্যাগ করেছেন দুদকের চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার।

আজ সকালে যথাসময়ে অফিসে এসে চেয়ারম্যান ও কমিশনাররা কর্মকর্তাদের সিনিয়রিটিসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক ফাইলে সই-স্বাক্ষর সম্পন্ন করেন। পরে পদত্যাগ প্রসঙ্গে আলোচনা করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে যান তারা।

এর আগে, সকালে দুদক চেয়ারম্যান ড. এম এ মোমেন গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে যাচ্ছি। সেখানে কথাবার্তা বলে দেখি। যদি সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তবে কমিশনে ফিরে এসে পদত্যাগ করবো। এর বেশি এখন কিছু বলতে পারছি না।

পদত্যাগের আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি জানান, নিয়ম অনুযায়ী পদত্যাগ করতে হলে রাষ্ট্রপতিকে সম্বোধন করে এক মাস আগে জানাতে হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত কী ঘটে, তা দেখার বিষয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ১২ ডিসেম্বর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিব ড. এম এ মোমেনকে দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়। এছাড়া ১০ ডিসেম্বর কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী (তদন্ত) এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ (অনুসন্ধান)। তারা যথাক্রমে ১১ ও ১৫ ডিসেম্বর নিজ নিজ পদে যোগদান করেছিলেন।

২০০৪ সালের ২১ নভেম্বর তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত সরকার দুর্নীতি দমন ব্যুরো বিলুপ্ত করে স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গঠন করে। সে সময় বিচারপতি সুলতানকে চেয়ারম্যান এবং ঢাবির সাবেক ভিসি মনিরুজ্জামান মিঞা ও অডিটর মনিরুদ্দিনকে কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীকালে ২০০৭ সালে জরুরি সরকার ক্ষমতা নিয়ে আগের কমিশন সরিয়ে সাবেক সেনাপ্রধান লে. জেনারেল হাসান মশহুদ চৌধুরীকে চেয়ারম্যান এবং জেলা জজ হাবিবুর রহমান ও অডিট বিভাগের মঞ্জুর মান্নানকে কমিশনার নিয়োগ দেয়।

২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিশাল জয় পেয়ে জরুরি সরকারের নিয়োগ দেওয়া কমিশন ভেঙে দেয়। তবে তৎকালীন চেয়ারম্যান লে. জেনারেল হাসান মশহুদ চৌধুরী পদত্যাগ করতে তিন মাস সময় পেয়েছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন পর্যন্ত সংস্থাটিতে সরকার তাদের পছন্দমতো ব্যক্তিদের চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে নিয়োগ প্রদান করে আসছিল।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.