প্রাইম ব্যাংক ও ফ্রন্ডেশপি চালু করলো যুগান্তকারী জলবায়ু সহনশীলতা উদ্যোগ

বাংলাদেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ চরাঞ্চলে মানুষদের জন্য একটি যুগান্তকারী জলবায়ু সহনশীলতা উদ্যোগ চালু করছে প্রাইম ব্যাংক পিএলসি এবং ফ্রন্ডেশপি। প্রাইম ব্যাংকের কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কর্মসূচির আওতায় ‘সেফ শোরস: এমপাওয়ারিং চর কমিউনিটিস এগেইন্সট ক্লাইমটে চেঞ্জ’ (Safe Shores: Empowering Char Communities Against Climate Change) শীর্ষক উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় চরবাসীর প্রস্তুতি ও দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা জোরদার করবে।

রবিবার (১ মার্চ) ব্যাংকটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য ‍নিশ্চিত করেছে।

ব্যাংকের কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির আওতায় নতুন প্রকল্পটির লক্ষ্য হলো জলবায়ু অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি, জীবিকা সুরক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি সহনশীলতা গড়ে তোলা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে কুড়িগ্রাম জেলার চলিমারী উপজেলার অষ্টমীর চর ইউনিয়নের অন্তর্গত সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ চর ভাটপাড়ায়, যা নিয়মিত বন্যা, নদী ভাঙন এবং চরম জলবায়ু ঘটনার সম্মুখীন হয়। এর মাধ্যমে চরবাসীর জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি (সোলার ভল্টেজ), বন্যায় আশ্রয় স্থান, জীবিকা সহায়তা, স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন হবে, যা ফ্রন্ডেশপি-এর সমন্বিত জলবায়ু অভিযোজন মডেলের মাধ্যমে সমর্থন পাবে।

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছেন প্রাইম ব্যাংক পিএলসি-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান ও. রশদি এবং ফ্রন্ডেশপি-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক খান রুনা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাইম ব্যাংকের ডিএমডি ও সিইআরও মোঃ জয়াইউর রহমান এবং ফ্রন্ডেশপি-এর মুহাম্মদ শামীম রজো, সিনিয়র ডিরেক্টর, লগিস্টিক এবং চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার।

হাসান ও. রশদি বলেন, “প্রাইম ব্যাংকে আমরা বিশ্বাস করি, প্রকৃত ব্যাংকিং কেবল লেনদেনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের সবচেয়ে খারাপ সময়ে তাদের পাশে থাকা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা সহনশীলতা, মর্যাদা এবং আশার মধ্যে বিনিয়োগ করছি। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যাতে কোনো সম্প্রদায় পিছিয়ে না পড়ে—এমন একটি ভবিষ্যৎ গড়ার প্রতি আমাদের অঙ্গীকারের প্রতিফলন আজকের এই অংশীদারিত্ব।”

ফ্রন্ডেশপি-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক খান রুনা বলেন, “একটি পরিবার যখন নদীভাঙনে তাদের জমি হারায়, তখন তারা শুধু একটি ঘরই হারায় না, বরং তাদের আশা-ভরসা আর স্বপ্নের সামর্থ্যও হারায়। একই সাথে তাদের মর্যাদাও ক্ষুণ্ণ হয়। ‘সেফ শোরস’ উদ্যোগটি তাদের সাহস ও শক্তি পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা, যাতে ভাটপাড়ার মানুষ নিরাপত্তা ও সম্ভাবনার ভিত্তিতে জীবনকে নতুন করে গড়তে পারে। এই বাস্তবতায় নারী ও শিশুদের গুরুত্ব দিয়ে স্থানীয়ভাবে পরিচালিত সহনশীলতা গড়ে তুলতে প্রাইম ব্যাংককে পাশে পেয়ে আমরা গর্বিত।”

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.