কিশোরীকে ধর্ষণ-হত্যায় ঘটনায় গ্রেপ্তার ৫

নরসিংদীর মাধবদীতে কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিনগত রাতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারেরা হলেন- আহাম্মদ আলী মেম্বার ওরফে আহাম্মদ দেওয়ান (৬৫), তার ছেলে মো. ইমরান দেওয়ান (৩২), ধর্ষক নুরার চাচাতো ভাই এবাদুল্লাহ (৪০), মো. আইয়ুব (৩০) ও গাফ্ফার (৩৪)।

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় নয়জনকে আসামি করে মামলা দায়েরের পর তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদেরও গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে এবং তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা বলেন, নিহতের বাবা আশরাফ হোসেন বরিশালের বাসিন্দা। কাজের সুবাদে তিনি স্ত্রী-কন্যাসহ মাধবদীর বিলপাড় এলাকায় ভাড়ায় বসবাস করতেন। গত ১৫ দিন আগে স্থানীয় বখাটে নুরার নেতৃত্বে ৫-৬ জনের একটি দল এলাকা থেকে মেয়েটিকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে বিচার চেয়ে নিহতের পরিবার আহাম্মদ আলী মেম্বার ওরফে আহাম্মদ দেওয়ানের দ্বারস্থ হয়। কিশোরীর পরিবারকে গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়।

গত বুধবার রাতে বাবা আশরাফ হোসেন তার কাজ শেষে মেয়েকে নিয়ে খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বড়ইতলা এলাকায় পৌঁছালে নুরার নেতৃত্বে আরও পাঁচজন মিলে তার বাবার কাছ থেকে কিশোরীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে পরিরেরর লোকজনসহ বেশ কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে বাড়ি ফিরে যায়। বৃহস্পতিবার দুপুরে একই এলাকার একটি সরিষা খেত থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো মরদেহটি দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে মাধবদী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ময়নাতদন্ত শেষে নিহত কিশোরীর বাবা মো. আশরাফ বলেন, নুরার নেতৃত্বে ৫-৬ জন লোক আমার সামনে থেকে মেয়েকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে আমরা অনেক খোঁজাখুঁজি করে রাতে আর পাইনি। সকালে আমরা জানতে পারি লাশ ঘটনাস্থলে পড়ে আছে। আমার সন্তানকে যারা হত্যা করেছে আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও নরসিংদী সদর আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন বলেন, ধর্ষক ও হত্যাকারীসহ সকল অপরাধীদের জন্য আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। অপরাধী যে দলেরই হোক তাদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ইতোমধ্যেই ধর্ষক নুরাসহ সকল অপরাধীদের গ্রেপ্তারের জন্য আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সার্বিক খোঁজখবর নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে আমরা নিহতের বাড়ি যাচ্ছি এবং তাদের সর্বাত্মক সহায়তার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.