বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গভর্নরের উপদেষ্টা আহসানুল্লাহকে ‘লাঞ্ছিত’ করে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর আগে, সরকারের পক্ষ থেকে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনুসরেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে গভর্নর অফিস থেকে চলে যান। এর পরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, কিছু কর্মকর্তা গভর্নরের উপদেষ্টা আহসানুল্লাহকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন।
আহসানুল্লাহ যখন কর্মকর্তাদের তোপের মুখে অফিস থেকে বের হয়ে গাড়িতে ওঠেন, তখন কিছু কর্মকর্তা তার দিকে ক্ষিপ্ত মন্তব্য করেন এবং মব সৃষ্টির চেষ্টা করেন।
কর্মকর্তাদের এমন আচরণ দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়ে অস্থিরতার সংকেত দিচ্ছে এবং এর পরিণতি কী হতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিষয়টি দুঃখজনক জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, নতুন সরকারের সময়ে এমন কোনো আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়, যা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে। কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা ও সংযমের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার পাশাপাশি বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে সবাইকে ধৈর্যের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ ও দেশত্যাগ করেন। এর দুইদিন পর ৭ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা ৩০ তলা ভবনের নিচে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করেন। ক্ষোভের মুখে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে চলে যেতে বাধ্য হন ওই সময়ে ডেপুটি গভর্নর ও উপদেষ্টারা।
ওইদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বিল্ডিংয়ের চতুর্থ তলায় কর্মকর্তারা ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দিয়ে অবস্থান নেন। এ সময় কার্যালয় থেকে বের হয়ে যান দুই ডেপুটি গভর্নর খোরশেদ আলম, ড. হাবিবুর রহমান, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপদেষ্টা আবু ফরাহ মো. নাসের ও বাংলাদেশ ফাইন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান মাসুদ বিশ্বাস। অন্য দুই ডেপুটি গভর্নর কাজী সাইদুর রহমান ও নুরুন নাহার সাদা কাগজে সই দিয়ে চাকরি থেকে রিজাইন করতে বাধ্য হন। এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যে এমন আন্দোলন কেউ দেখেননি বলে জানান সংস্থাটির কর্মকর্তারা।
ওই আন্দোলনকে নজিরবিহীন বলে আখ্যায়িত করেছেন অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বলেছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইতিহাসে এমন আন্দোলন আগে দেখা যায়নি। একজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, এ ধরনের নজির অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে কর্মকর্তারা সাধারণত ভদ্র এবং পেশাদার মানসিকতার। এই ধরনের আচরণ অনেক মহলে প্রশ্ন তৈরি করছে এবং এটি আমাদের জন্য সুখকর নয়। এই নোংরা পরিস্থিতি থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসা জরুরি।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.