যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে বাড়তে থাকা সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম সাত মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীরা মধ্যপ্রাচ্যে তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। বিশেষ করে জেনেভায় দুই দেশের মধ্যকার পরমাণু আলোচনা নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা বাজারের অস্থিরতা বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম গত বছরের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চে অবস্থান করছে। খবর গণমাধ্যমের।
গতকাল আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজার আদর্শের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭১ ডলার ৪৯ সেন্টে লেনদেন হয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলপ্রতি ১১ সেন্ট বা দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৬৬ ডলার ৪২ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের এ দাম গত বছরের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। জ্বালানি সমৃদ্ধ এ অঞ্চলে কোনো ধরনের সামরিক সংঘাত শুরু হলে তেলের বিশ্বব্যাপী সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে, এমন ভীতিই মূলত দাম বাড়ার প্রধান কারণ।
জ্বালানি তেলের এ মূল্যবৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আসন্ন তৃতীয় দফার পরমাণু আলোচনা। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি জানিয়েছেন, আগামীকাল জেনেভায় এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে দুই পক্ষের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপড়েন এখনো কাটেনি। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান যেন তাদের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। তবে ইরান শুরু থেকেই এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তেহরানের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না এবং শান্তিপূর্ণভাবে এ প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার তাদের রয়েছে।
এদিকে লেবাননের বৈরুতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে জরুরি নয় এমন সরকারি কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারকে সরিয়ে নিতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, পরমাণু ইস্যুতে কোনো সমঝোতায় না পৌঁছালে দেশটির জন্য সামনে অত্যন্ত খারাপ দিন অপেক্ষা করছে।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান এসইবি-এর বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এখনই হয়তো বড় কোনো যুদ্ধ শুরু হবে না, তবে পরিস্থিতি যেদিকে মোড় নিচ্ছে তাতে উত্তেজনা প্রশমন করা কঠিন হয়ে পড়বে। যখনই সামরিক শক্তি প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়, তখন বাজারে একধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এ অনিশ্চয়তার সুযোগেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের সঙ্গে বাড়তি ‘রিস্ক প্রিমিয়াম’ যুক্ত হচ্ছে। ফলে আমদানি নির্ভর দেশগুলো চাপের মুখে পড়বে।
এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক অনিশ্চয়তাও প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে। বিশ্বের নজর এখন জেনেভা বৈঠকের দিকে। জ্বালানি তেলের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে পরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বেড়ে সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই এ সংকট নিরসনে কূটনীতি জয়ী হবে নাকি সংঘাত বাড়বে, তা নিয়ে এখন গভীর পর্যবেক্ষণে রয়েছে বিশ্ববাজার।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.