বাংলাদেশ পুলিশের নতুন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মো. আলী হোসেন ফকির। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে পুলিশ সদরদপ্তরে তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এর আগে মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে অতিরিক্ত আইজিপি ও এপিবিএন প্রধান আলী হোসেন ফকিরকে পুলিশের সর্বোচ্চ পদে নিয়োগ দেয় সরকার।
মো. আলী হোসেন ফকির বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের একজন অত্যন্ত চৌকস কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। তাঁর পেশাগত জীবন ছিল নানা চড়াই-উতরাইয়ে পূর্ণ। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি দুবার বড় ধরনের বাধার সম্মুখীন হন। ১৯৯৭ সালে শেখ হাসিনার প্রথম মেয়াদে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়, যা পরবর্তীতে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় আইনি প্রক্রিয়ায় ফিরে পান তিনি। এরপর ২০২২ সালে আবারও তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে তিনি পুনরায় আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে এসপি পদমর্যাদায় চাকরিতে ফিরে আসেন। এরপর মেধা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে তিনি সুপারনিউমারারি ডিআইজি এবং পরবর্তীতে অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পদোন্নতি পান।
বাগেরহাটের সন্তান আলী হোসেন ফকির মাঠ পর্যায়ের পুলিশিংয়ে অত্যন্ত দক্ষ। তিনি ডিএমপির উত্তরা জোনের ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালনসহ দেশের একাধিক জেলায় এসপি হিসেবে সফলতার পরিচয় দিয়েছেন। এছাড়া জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনেও তিনি সাহসিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
পুলিশ বাহিনীর চেইন অব কমান্ড ফিরিয়ে আনা এবং সংস্কার প্রক্রিয়ায় তাঁর এই নিয়োগকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। নবনিযুক্ত আইজিপি হিসেবে তাঁর এই দায়িত্ব গ্রহণকে বাহিনীর সাধারণ সদস্যরাও ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.