যাদের বেশি ক্ষতি করতে চাইলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, এবার উল্টো তাদেরই বেশি লাভ হচ্ছে। বিষয়টি হলো, ট্রাম্পের নতুন ১৫ শতাংশ গ্লোবাল শুল্কনীতিতে সবচেয়ে বেশি লাভ হতে পারে ব্রাজিল ও চীন।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমস এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প যেসব দেশকে সবচেয়ে বেশি সমালোচনা করেছেন, তারাই এই নতুন শুল্ক কাঠামোয় সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবে।
স্বাধীন বাণিজ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থা গ্লোবাল ট্রেড অ্যালার্ট এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ব্রাজিলের গড় শুল্কহার সবচেয়ে বেশি কমবে। তাদের শুল্ক কমতে পারে প্রায় ১৩ দশমিক ৬ শতাংশীয় পয়েন্ট। চীনের বেলায় এটি প্রায় ৭ দশমিক ১ শতাংশীয় পয়েন্ট।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে চীনের পণ্যে আরোপিত গড় শুল্ক ৩২ শতাংশ থেকে কমে ২৪ শতাংশে নেমে আসবে। সিএনএন এর সংবাদে বলা হয়েছে, এই পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে লাভবান হবে চীন। সেই সঙ্গে চীন ইতিমধ্যে উচ্চ শুল্কের প্রভাব মোকাবিলায় সরবরাহ ব্যবস্থায় নানা পরিবর্তন নিয়ে এসেছে।
চীন এখন সয়াবিনের মতো পণ্য বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করছে। যুক্তরাষ্ট্রে তাদের রপ্তানি কমলেও অন্য দেশে বেড়েছে। ফলে গত বছর তাদের রেকর্ড ১ লাখ ২০ হাজার কোটি ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল। দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনাম এর মতো দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করতে বাধ্য হলেও চীনের নিজের শক্তির বলে ছাড় দেয়নি। বরং যুক্তরাষ্ট্র উল্টো নানা সময় ছাড় দিয়েছে।
সংবাদে বলা হয়েছে, নতুন এই শুল্কের কারণে সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখোমুখি হবে দীর্ঘদিনের মার্কিন মিত্র, যেমন যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাপান। অর্থাৎ ট্রাম্পের গোলা শত্রু শিবিরে না পড়ে মিত্র শিবিরে পড়ছে।
গত বছর জানুয়ারিতে ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশের পণ্যে শুল্ক আরোপ করেছিলেন। কিন্তু গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সেই পদক্ষেপ বেআইনি বলে বাতিল করেন। এর পরেই ট্রাম্প প্রথমে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক ঘোষণা করেন। পরে তা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ করেন। এই নতুন শুল্ক আজ মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হবে। তবে এর মেয়াদ আপাতত ১৫০ দিন। এরপর কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া এর মতো এশিয়ার অন্যান্য উৎপাদনকারী দেশও নতুন শুল্কের কারণে সুবিধা পাবে। এর জেরে এসব দেশ থেকে পোশাক, আসবাব, খেলনা ও প্লাস্টিক পণ্যের রপ্তানি বাড়তে পারে।
তবে ভবিষ্যতে শুল্কনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ট্রেড অ্যাক্ট এর সেকশন ৩০১ অনুযায়ী নির্দিষ্ট দেশগুলোর বিরুদ্ধে নতুন তদন্ত শুরু করতে পারে। ইতিমধ্যে ব্রাজিল ও চীনের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। সেই সঙ্গে মার্কিন কংগ্রেস ও সুপ্রিম কোর্ট অনেক ক্ষেত্রে বাদ সাধতে পারেন। সব মিলিয়ে বিশ্বব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা আরও বাড়ল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে তদন্তের ভিত্তিতে নতুন শুল্ক আরোপ করা হবে। তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতির গুরুত্বের কারণে ট্রাম্প সর্বোচ্চ ক্ষমতা ব্যবহার করেছেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি এখনো বহাল রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন শুল্কনীতি ভারত এর জন্য স্বল্প মেয়াদে কিছু অনিশ্চয়তা তৈরি করলেও দীর্ঘ মেয়াদে রপ্তানির সুযোগ বাড়তে পারে।
২০২৫ সালের ২ এপ্রিল বিশ্বের ১৫৭টি দেশের পণ্যে বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৯ এপ্রিল থেকে তা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তারা তিন মাসের জন্য সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শুরু করে। এরপর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তারা চুক্তি করে। কিন্তু গত শুক্রবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের এই পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করেন।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.