ডাক বিভাগের মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান নগদ-এ বিদেশি বিনিয়োগ আনার প্রস্তাব নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক–এর গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে গেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আরমান।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ছেলে ব্যারিস্টার আরমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসন থেকে নির্বাচিত হন।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক শুরু হয় তার।
পেশায় আইনজীবী আরমান জানান, প্রস্তাবিত বিনিয়োগকারীরা বিদেশি এবং তিনি তাদের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে প্রাথমিক যোগাযোগ করছেন। তার ভাষ্য, বিনিয়োগকারীরা দেশে এলে মূল আলোচনা শুরু হবে। তবে কোন দেশের বিনিয়োগকারী বা কোন প্রতিষ্ঠানের পক্ষে তিনি কাজ করছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
এর আগে গত বছরের ২৫ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গভর্নর আহসান এইচ মনসুর ঘোষণা দেন, নগদকে ডাক অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ থেকে বের করে বেসরকারি খাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেছিলেন, নতুন বিনিয়োগকারী খুঁজতে শিগগির বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে এবং তিন থেকে চার মাসের মধ্যে মালিকানা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। তারমতে, নগদ পরিচালনায় ডাক বিভাগের সক্ষমতা সীমিত।
২০১৯ সালের ২৬ মার্চ যাত্রা শুরু করে নগদ। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সও পায়। তবে বিগত সরকারের সময়ে নিয়ম ভেঙে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক নগদের পর্ষদ ভেঙে প্রশাসক নিয়োগ দেয়। পরে উচ্চ আদালত সে সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করলে নগদের দায়িত্ব ফিরে যায় ডাক অধিদপ্তরের হাতে।
এদিকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গত ফেব্রুয়ারিতে নগদের বিরুদ্ধে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। মামলায় সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ মিশুকসহ ২৪ জনকে আসামি করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শনে বিভিন্ন ব্যাংকের ট্রাস্ট কাম সেটেলমেন্ট হিসাবের বিপরীতে ১০১ কোটি টাকার বেশি রিয়েল মানির ঘাটতি এবং ৬৪৫ কোটি টাকার ই-মানি ঘাটতিসহ বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের তথ্য উঠে আসে বলে অভিযোগ করা হয়।
গভর্নর আহসান এইচ মনসুর গণমাধ্যমকে বলেন, কোনো ‘বিশ্বাসযোগ্য বিদেশি বিনিয়োগকারী’ থাকলে তবেই আরমানের আইন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। তার দাবি, এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চিঠি পাওয়া যায়নি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া চিঠিতে গ্রহণযোগ্য বিনিয়োগকারীর নাম উল্লেখ নেই।
গভর্নর জানান, সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের পরিচয়, সংশ্লিষ্ট খাতে অভিজ্ঞতা এবং আর্থিক সক্ষমতা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য দিতে হবে। আর যদি দেশীয় বিনিয়োগকারী এগিয়ে আসেন, সে ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগকারীর নাম দেখিয়ে প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আগেই বলেছিলেন, নগদকে পুনর্গঠনের জন্য প্রযুক্তি-ভিত্তিক শক্তিশালী কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন—যেমন বিকাশের মতো ধাপে ধাপে শেয়ার নিয়ে বিনিয়োগ করতে সক্ষম কোম্পানি—যাতে প্রতিষ্ঠানটিকে একটি কার্যকর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করা যায়।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.