ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়–এর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস–এর একসময়ের প্রভাবশালী নেতা মুকুল রায় গতকাল রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর।
গতকাল রাতে কলকাতার নিউটাউনের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি একমাত্র ছেলে সাবেক বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়কে রেখে গেছেন।
রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে মুকুল রায় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস–এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সে সময় যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কংগ্রেসের বনিবনা না হলে ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ছাড়েন এবং তৃণমূল কংগ্রেস গঠনে মুখ্য ভূমিকা রাখেন। দলটির অন্যতম প্রধান সংগঠক হিসেবে তিনি পরিচিতি পান।
১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের পর মুকুল রায় দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন দলের প্রধান। সে সময় রাজনৈতিক মহলে তাঁকে তৃণমূল কংগ্রেসের ‘চাণক্য’ হিসেবেও অভিহিত করা হতো।
মুকুল রায়ের জন্ম পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ায়, ১৯৫৪ সালের ১৭ এপ্রিল। আজ সোমবার তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
দলের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে ২০১৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর তিনি ভারতীয় জনতা পার্টি–তে যোগ দেন। পরে ২০২১ সালে বিজেপির টিকিটে কৃষ্ণনগর উত্তর আসন থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন এবং কেন্দ্রীয় জাহাজ চলাচলবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর তিনি বিজেপি ছেড়ে পুনরায় তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে আসেন।
শিক্ষাজীবনে মুকুল রায় কাঁচরাপাড়ার হার্নেট স্কুলে পড়াশোনা করেন। পরে নৈহাটির ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র কলেজে অধ্যয়ন শেষে তামিলনাড়ুর কামরাজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোকপ্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
মুকুল রায়ের মৃত্যুতে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ, সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য পার্থ ভৌমিক তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.