গুরুত্বপূর্ণ ও বিরল খনিজের চুক্তি করল ভারত-ব্রাজিল

গুরুত্বপূর্ণ ও বিরল খনিজ মৌল নিয়ে ভারত ও ব্রাজিল চুক্তি সই করেছে। শনিবার নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ব্রাজ়িলের প্রেসিডেন্ট লুইজ় ইনাসিও লুলা দা সিলভার বৈঠকের পরে এই সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হয়। এই চুক্তিকে দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শনিবার নরেন্দ্র মোদি ও লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার মধ্যে নয়াদিল্লিতে দীর্ঘ বৈঠক হয়। এ বৈঠকের পর ভারত ও ব্রাজিল তাদের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও গভীর করার সুদূরপ্রসারী রূপরেখা ঘোষণা করে। ডিজিটাল রূপান্তর, অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা, জলবায়ু পরিবর্তনের রাশ টেনে ধরার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার ভিত্তিতে এই রূপরেখা ঘোষিত হয়েছে। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা ১৮ থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভারত সফর করছেন। খবর গণমাধ্যমের।

সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ও বিরল খনিজ নিয়ে হওয়া এই চুক্তি স্থিতিশীল সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও সহযোগিতা শক্তিশালী হচ্ছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, ভারত ও ব্রাজিলের পারস্পরিক বিশ্বাস ও কৌশলগত সমন্বয় বাড়ছে। দুই দেশের এই অংশীদারি আরও শক্তিশালী করব।

মোদি আরও বলেন, স্বাস্থ্য ও ওষুধ খাতেও সহযোগিতার বিপুল সম্ভাবনা আছে। ভারত থেকে ব্রাজিলে সাশ্রয়ী ও উচ্চমানের ওষুধ সরবরাহ বৃদ্ধিতে কাজ করবে ভারত।

ব্রাজ়িলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা জানান, গত বছরের জুলাইয়ে নরেন্দ্র মোদিকে তিনি স্বাগত জানিয়েছিলেন। সেই সফরকে তিনি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ‘মাইলফলক’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, ‘সেই সময় আমরা প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা, শক্তি পরিবর্তন ও জলবায়ু পরিবর্তন, ডিজিটাল রূপান্তর ও কৌশলগত শিল্প সহযোগিতা—এই পাঁচটি ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার রূপরেখা নতুন করে তৈরি করি।’

লুলা তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জৈব প্রযুক্তি ও মহাকাশ অনুসন্ধানের মতো অত্যাধুনিক ক্ষেত্রে ভারতের অগ্রগতির প্রশংসা করেন। তাঁর মতে, এসব ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে নতুন শিল্প সহযোগিতার দ্বার খুলে যাবে।

আধুনিক প্রযুক্তির জন্য বিরল খনিজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈদ্যুতিক গাড়ি, সৌর প্যানেল, স্মার্টফোন, জেট ইঞ্জিন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে এই উপাদান ব্যবহার করা হয়। ব্রাজিলের কাছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ভান্ডার আছে। ফলে এ ক্ষেত্রে ব্রাজিল ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প উৎস হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে ভারত ক্রিটিক্যাল মিনারেলের ক্ষেত্রে চীনের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর চেষ্টা করছে। বর্তমানে এই খাতে চীনের প্রায় একচেটিয়া আধিপত্য আছে। তাই ভারত নিজস্ব উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন আন্তর্জাতিক অংশীদার খুঁজছে।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের তথ্যানুসারে, বর্তমানে বিরল খনিজ খননের ৭০ শতাংশ, প্রক্রিয়াজাতকরণের ৯০ শতাংশ আর চুম্বক তৈরির ৯৩ শতাংশই চীনের হাতে। তা সত্ত্বেও তুলনামূলকভাবে কম দাম রেখে তারা নতুন প্রতিযোগীদের বাজারে প্রবেশ নিরুৎসাহিত করছে। ফলে এ ক্ষেত্রে পশ্চিমারাও বিকল্প সরবরাহ গড়ে তুলতে পারছে না। বিশ্লেষকেরা বলেন, চীন উৎপাদন কমিয়ে দাম বাড়ায় না, বরং বাজার নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে প্রয়োজনমতো সম্পদকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে।

এই চুক্তি শুধু সরবরাহ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে না, বরং ভবিষ্যতের প্রযুক্তি, শক্তি ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও ভারত-ব্রাজিল সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.