যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট আগের শুল্ক ব্যবস্থাকে অবৈধ ঘোষণার পরপরই কঠোর পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার তিনি সব ধরনের আমদানিকৃত পণ্যের ওপর সাময়িকভাবে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। আগামী মঙ্গলবার থেকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। গণমাধ্যম এ খবর জানিয়েছে।
আদালতের রায়ের পর ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ১২২ ধারা ব্যবহার করে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এই আইনের অধীনে ভারসাম্যহীন লেনদেনের অজুহাতে যেকোনও দেশের ওপর ১৫০ দিনের জন্য ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের রয়েছে। মূলত ১৯৭৭ সালের জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের (আইইইপিএ) অধীনে আরোপিত ১০ থেকে ৫০ শতাংশ শুল্ক আদালত অবৈধ ঘোষণা করায় এই নতুন কৌশল বেছে নিয়েছেন ট্রাম্প।
নতুন এই পদক্ষেপ সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, আমাদের কাছে চমৎকার সব বিকল্প আছে। এর মাধ্যমে আরও বেশি অর্থ আসবে এবং আমরা আরও শক্তিশালী হব।
নতুন এই ১০ শতাংশ শুল্ক মাত্র পাঁচ মাসের জন্য হলেও ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তদন্ত শেষে এই হার আরও বাড়তে পারে। তিনি বলেন, শুল্ক কতটা হবে তা আমাদের ওপর নির্ভর করে। যেসব দেশ আমাদের সঙ্গে বছরের পর বছর খারাপ ব্যবহার করেছে, তাদের আরও বেশি শুল্ক দিতে হতে পারে।
নির্বাহী আদেশে জানানো হয়েছে, আগের কিছু ছাড় এখনও বহাল থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে: অ্যারোস্পেস বা মহাকাশযান সংশ্লিষ্ট পণ্য, যাত্রীবাহী গাড়ি এবং কিছু হালকা ট্রাক, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তি মেনে আসা মেক্সিকো ও কানাডার পণ্য এবং ওষুধ, বিশেষ খনিজ দ্রব্য ও কৃষি পণ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, আইনি জটিলতার কারণে পথ কিছুটা ঘুরিয়ে নিতে হলেও ২০২৬ সালে শুল্ক থেকে অর্জিত রাজস্বে কোনও পরিবর্তন হবে না। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, আমরা একই পরিমাণ শুল্ক আদায় করব, শুধু পদ্ধতিটা এখন কিছুটা পরোক্ষ ও জটিল হবে।
এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ফলে গত এক বছরে আদায় করা প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন ডলার শুল্ক আমদানিকারকদের ফেরত দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে ট্রাম্প এখনই এই টাকা ফেরত দেওয়ার পক্ষে নন। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে আগামী দুই থেকে পাঁচ বছর আইনি লড়াই চলতে পারে। ট্রেজারি সেক্রেটারিও আভাস দিয়েছেন যে, এই অর্থ ফেরতের বিষয়টি দীর্ঘ সময় ঝুলে থাকতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসন কেবল নতুন শুল্ক বসিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, বরং বিভিন্ন দেশের অন্যায্য বাণিজ্য নীতি খতিয়ে দেখতে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিয়েন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই তদন্তের বিস্তারিত জানানো হবে। বিশেষ করে চীন, ব্রাজিল, ভিয়েতনাম ও কানাডার মতো বড় বাণিজ্যিক অংশীদাররা এই তদন্তের মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.