চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ড থেকে চারদিনের মধ্যে পণ্য খালাস নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে অধিকাংশ স্ক্যানিং মেশিন দীর্ঘদিন অচল থাকার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বন্দর ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের দ্রুত বিকল মেশিনগুলো সচল করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘এত গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি কীভাবে দিনের পর দিন অচল থাকে? এ ধরনের গাফিলতি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। পণ্যজট ও ধীরগতির সরবরাহের অন্যতম কারণ হচ্ছে এসব স্ক্যানিং মেশিনের অচলাবস্থা।’
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের মেহেদীবাগে নিজ বাসভবনে বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনের প্রতিনিধি, শীর্ষ ব্যবসায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল বন্দর নগরী চট্টগ্রামে তার প্রথম সফর।
চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসন থেকে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নির্বাচনি এলাকায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস, ইস্টার্ন রিফাইনারি, বিমানবন্দর ও সিইপিজেডসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও শিল্প স্থাপনাগুলো অবস্থিত।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত চট্টগ্রাম পোর্ট ইউজার্স ফোরামের প্রতিনিধিরাসহ বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনের নেতারা যে কোনো কারণেই যেন এক ঘণ্টার জন্যও বন্দর কার্যক্রম বন্ধ না হয়—সে লক্ষ্যে তারা সমন্বিতভাবে কাজ করবেন বলে আশ্বাস দেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সর্বোচ্চ দক্ষতা ও দ্রুততার সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের পদ্ধতি অনুসরণ করে বন্দর পরিচালনার বিকল্প নেই। বাজারে পণ্যমূল্য, বাণিজ্য ও শিল্প উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব এড়াতে পরিচালন ও সেবার ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে।’
বন্দর পরিচালনা, কাস্টমস প্রক্রিয়া, পণ্য খালাস, রপ্তানি-আমদানি পণ্যের জাহাজীকরণ ও খালাস সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও উচ্চপর্যায়ে উপস্থাপন করতে, যাতে দ্রুত সমাধান সম্ভব হয়—সেজন্য তিনি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের নির্বিঘ্ন পরিচালনা এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করতে নৌপরিবহন ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে তিনি নিজে বিষয়গুলো তদারকি ও পর্যবেক্ষণ করবেন।
বন্দর ও কাস্টমস সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের কাছ থেকে বিভিন্ন সমস্যা শোনার পর বৈঠকেই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করেন তিনি।
সভা শেষে ব্রিফিংয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আজ দীর্ঘদিন ধরে বন্দর ব্যবহারকারীরা যেসব সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, সেগুলোর সার্বিক চিত্র পর্যালোচনা করেছি। শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে অর্থনীতির বৃহত্তর স্বার্থে এসব সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান বের করা হবে।’
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন কমিশনার মো. শফিউল্লাহ, কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ, লে. কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম, আহ্বায়ক আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, সভাপতি এস এম সাইফুল আলম, সাধারণ সম্পাদক মো. শওকত আলী, বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি এম এ সালাম এবং চিটাগাং চেম্বার অ্যান্ড কমার্স ইন্ডাস্ট্রির সাবেক পরিচালক আমিরুল হক।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.