এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের শেয়ারে লক-ইন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত

আইপিও ফান্ডের ব্যবহার (utilization) সম্পন্ন না করেই ৩২-তলাবিশিষ্ট বিল্ডিং নির্মাণের উচ্চাভিলাসী পরিকল্পনা সম্পর্কিত প্রাইস সেনসিটিভ ইনফরমেশন (PSI) প্রকাশ করায় এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড কে নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে প্রশ্ন। প্রসপেক্টাসে উল্লেখিত খাতে ব্যয় সম্পন্ন না হওয়া, প্রকল্প মূল্যায়ন (Project Evaluation), সম্ভাব্যতা যাচাই (Feasibility Test) ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন ব্যতিরেকে পরিকল্পনা প্রকাশ এবং সংঘস্মারক (Memorandum of Association) এর সাথে সংগতিপূর্ণ নয়—এমন বিষয় উদঘাটিত হওয়ায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (DSE) এর পরিদর্শন প্রতিবেদনের সুপারিশ, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় কমিশন উদ্যোক্তাবৃন্দ, পরিচালকবৃন্দ ও প্লেসমেন্ট শেয়ারহোল্ডারবৃন্দ কর্তৃক ধারণকৃত শেয়ারের উপর লক-ইন (lock-in) বৃদ্ধিকরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিএসইসি’র চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এর সভাপতিত্বে ৯৯৯তম কমিশন সভায় অন্যান্যের মধ্যে নিম্নবর্ণিত সিদ্ধান্তসমূহ গৃহীত হয়েছে।

বিএসইসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানান হয়েছে, ৩১ আগস্ট ২০২২ তারিখে অনুষ্ঠিত কমিশনের ৮৩৭ তম কমিশন সভায় এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড এর ৯৫.০০ কোটি টাকা প্রাথমিক গণ প্রস্তাব (IPO) এর মাধ্যমে উত্তোলন করার প্রস্তাব অনুমোদনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। উক্ত IPO এর মাধ্যমে ৯৫.০০ কোটি টাকা পুঁজি উত্তোলন করে কোম্পানিটি ব্যবসায় সম্প্রসারণ (যন্ত্রপাতি ক্রয় ও ইনস্টলেশন), ফ্যাক্টরি ভবন নির্মাণ, ব্যাংক ঋণ পরিশোধ এবং ইস্যু ব্যবস্থাপনা খরচ খাতে ব্যয় করবে মর্মে কোম্পানিটির প্রসপেক্টাসে উল্লেখ থাকলেও কোম্পানিটি এখন পর্যন্ত প্রাথমিক গণ প্রস্তাব (IPO) এর মাধ্যমে উত্তোলনকৃত অর্থ বা আইপিও ফান্ডের ব্যবহার (utilization) সম্পন্ন করতে পারেনি।

আইপিও ফান্ডের ব্যবহার (utilization) সম্পন্ন না করেই প্রকল্প মূল্যায়ন (Project Evaluation), সম্ভাব্যতা যাচাই (Feasibility Test) ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন (রাজউক কর্তৃক বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন, পরিবেশগত ছাড়পত্র ইত্যাদি) ব্যতিরেকে এবং পূর্বঅভিজ্ঞতা ও দক্ষতা ছাড়াই কোম্পানিটি ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে ৩২-তলাবিশিষ্ট বিল্ডিং নির্মাণের উচ্চাভিলাসী পরিকল্পনা সম্পর্কিত প্রাইস সেনসিটিভ ইনফরমেশন (PSI) প্রকাশ করে। উল্লেখ্য, ৩২-তলাবিশিষ্ট বিল্ডিং নির্মাণ তথা রিয়েল এস্টেট/হোটেল ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার বিষয়টিও কোম্পানিটির সংঘস্মারক (Memorandum of Association) এর সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। এ বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (DSE) কর্তৃক পরিদর্শন (Inspection) পরিচালিত হয় এবং উক্ত পরিদর্শন প্রতিবেদনে উপরোল্লিখিত অসংগতি উদঘাটিত হয়।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (DSE) এর পরিদর্শন প্রতিবেদনের সুপারিশসমূহ, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড এর উদ্যোক্তাবৃন্দ, পরিচালকবৃন্দ ও প্লেসমেন্ট শেয়ারহোল্ডারবৃন্দ (প্রসপেক্টাসে উল্লেখিত ১৮৩ জন/প্রতিষ্ঠান) কর্তৃক ধারণকৃত শেয়ারসমূহের উপর বিদ্যমান লক-ইন (lock-in) অবমুক্তির তারিখ হতে পরবর্তী ০৩ (তিন) বছর বা প্রস্তাবিত ৩২-তলাবিশিষ্ট বিল্ডিংয়ের নির্মাণকাজের সমাপ্তি ও বাণিজ্যিক ব্যবহার চালুকরণের (রাজউক এর অকুপেন্সি সার্টিফিকেটসহ) মধ্যে যেটি পরে সম্পন্ন হবে ততদিন পর্যন্ত লক-ইন (lock-in) বৃদ্ধিকরণের সিদ্ধান্ত কমিশন কর্তৃক গৃহীত হয়।

এছাড়া, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ ও তথ্যপ্রকাশকারীর (whistleblower) সুরক্ষা প্রদান) বিধিমালা, ২০২৬’ এর খসড়া কমিশন সভায় অনুমোদনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। অনুমোদিত খসড়াটি জনমত যাচাইয়ের জন্য জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ও কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.