পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমে পৃথক দুটি বোমা হামলা ও পুলিশের সঙ্গে জঙ্গিদের গোলাগুলিতে অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও তিনজন বেসামরিক নাগরিক বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, সোমবার দেশটির খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে পৃথক বোমা হামলা ও গোলাগুলির এসব ঘটনায় আরও অন্তত এক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন।
আফগানিস্তানের সীমান্ত লাগোয়া পাকিস্তানের দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিদ্রোহ দমনে ব্যাপক লড়াই করছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। প্রায়ই সেখানে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা চালায় বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহীরা।
এর আগে, চলতি মাসে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে ভয়াবহ আত্মঘাতী বিস্ফোরণে ৩১ জন নিহত ও ১৬৯ জন আহত হন। পরে ওই মসজিদে হামলার দায় স্বীকার করে মধ্যপ্রাচ্য-ভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)।
দেশটির সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সোমবার খাইবার পাখতুনখোয়ার একটি তল্লাশি চৌকি ও একটি পুলিশ স্টেশন লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বিদ্রোহীরা।
বিবৃতিতে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বলেছে, বাজাউর জেলায় তল্লাশি চৌকির কাছে বিস্ফোরকভর্তি একটি যান দেয়ালে ধাক্কা দেয়। এতে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে নিরাপত্তা বাহিনীর ১১ সদস্য ও এক কন্যাশিশু নিহত হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিস্ফোরণে আশপাশের বেশ কিছু আবাসিক ভবনও ভয়াবহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশের একটি ভবন ধসে এক কন্যাশিশু নিহত ও আরও সাতজন আহত হন।
সেনাবাহিনী এই বোমা হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী হামলা’ আখ্যা দিয়েছে। একই সঙ্গে হামলার সঙ্গে ‘ভারতীয় মদতপুষ্ট’ গোষ্ঠীগুলো জড়িত বলে দাবি করেছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেছেন, বিস্ফোরক বোঝাই ওই গাড়ি বাজাউর জেলার একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেয়ালে আঘাত হানে।
এছাড়া পৃথক ঘটনায় বান্নু শহরের মিরইয়ান পুলিশ স্টেশনে একটি রিকশায় রাখা বোমার বিস্ফোরণে দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও ১৭ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.