চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে বড় ধরনের ধীরগতি দেখা দিয়েছে। অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) এডিপিতে ব্যয় হয়েছে ৫০ হাজার ৫৫৬ কোটি ২৯ লাখ টাকা, যা গত ৯ অর্থবছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
সরকারের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ২১ দশমিক ১৮ শতাংশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় এ হার উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের একই সময়ে বাস্তবায়নের হার ছিল ২৭ দশমিক ১১ শতাংশ এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছিল ২৮ দশমিক ১৬ শতাংশ। এমনকি রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সরকার পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে থাকা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়েও বাস্তবায়নের হার ছিল ২১ দশমিক ৫২ শতাংশ, যা চলতি বছরের চেয়ে সামান্য বেশি।
আইএমইডির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান, সরকার পতন ও প্রশাসনিক অস্থিরতার মধ্যেও মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো এডিপিতে ৫৯ হাজার ৮৭৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয় করতে সক্ষম হয়েছিল। সেই তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে ব্যয় কমেছে ৯ হাজার ৩২০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
আরও পেছনে তাকালে দেখা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে এডিপিতে ব্যয় হয়েছিল ৩৯ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা। এরপর থেকে প্রতি অর্থবছরেই একই সময়ে ব্যয়ের পরিমাণ চলতি বছরের তুলনায় বেশি ছিল। ফলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাস্তবায়ন হার ও ব্যয়ের পরিমাণ সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চলতি অর্থবছরে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার অর্থায়নসহ মোট ২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৯৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা এডিপিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে অর্থবছরের অর্ধেকের বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও বরাদ্দের বড় একটি অংশ এখনও অব্যবহৃত রয়েছে।
উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে এ ধীরগতির প্রভাব অর্থনীতির সামগ্রিক গতিশীলতায়ও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে অবকাঠামো, পরিবহন, জ্বালানি ও সামাজিক খাতের বড় প্রকল্পগুলোতে ব্যয় কমে গেলে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদার ওপর তার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.