যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন একটি পারমাণবিক চুক্তি করতে চায় ইরান, যা দুই পক্ষের জন্যই অর্থনৈতিক সুফল বয়ে আনবে। গতকাল রোববার একজন ইরানি কূটনীতিক এ কথা বলেছেন।
কয়েক দিনের মধ্যেই তেহরান–ওয়াশিংটন দ্বিতীয় দফা আলোচনায় বসার কথা রয়েছে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের কয়েক দশক ধরে চলা বিরোধের সমাধান এবং নতুন করে সামরিক সংঘাত এড়াতে চলতি মাসের শুরুতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবার আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে ওই আলোচনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরি পাঠিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে বলেছেন, আলোচনা সফল না হলে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন বাহিনী।
ব্রাতিস্লাভায় এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, তিনি কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানকে অগ্রাধিকার দেন। তবে একই সঙ্গে তিনি এটাও পরিষ্কার করেছেন যে এমন সমাধান নাও হতে পারে।
মার্কো রুবিও বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে কেউ সফল কোনো চুক্তি কখনো করতে পারেনি, কিন্তু আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
যুক্তরাষ্ট্র যদি হামলা চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা করার হুমকি দিয়ে রেখেছে ইরান। তবে রোববার দেশটি তুলনামূলক নরম সুরে কথা বলেছে।
ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক কূটনীতি বিভাগের উপপরিচালক হামিদ ঘানবারির বরাত দিয়ে বলেছে, চুক্তি টেকসই করতে হলে এমন খাত রাখতে হবে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রও লাভবান হবে এবং দ্রুত ও বেশি অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া যাবে।
হামিদ ঘানবারি বলেন, ‘তেল ও গ্যাসক্ষেত্র, খনিতে বিনিয়োগ এবং এমনকি উড়োজাহাজ ক্রয়–সংক্রান্ত সাধারণ স্বার্থ আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।’
২০১৫ সালে বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষিত করতে পারেনি বলে মনে করেন হামিদ ঘানবারি। ওই চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিনিময়ে দেশটির ওপর কার্যকর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথা বলা আছে।
২০১৮ সালে নিজের প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে ইরান পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরিয়ে নেন এবং তেহরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পুনঃপ্রয়োগ করেন।
ওমানের মধ্যস্থতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের আবার আলোচনা শুরু হয়েছে। গত শুক্রবার একটি সূত্র গণমাধ্যমকে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধিদল আগামী মঙ্গলবার জেনেভায় ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবে। মার্কিন প্রতিনিধিদলে ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার রয়েছেন।
রোববার ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গণমাধ্যমের কাছে মঙ্গলবারের বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.