এবারও কাউকে সরকারি ব্যয়ে হজে পাঠানো হচ্ছে না: ধর্ম উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন জানিয়েছেন, এ বছরও সরকারি ব্যয়ে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বা ব্যক্তিকে হজে নেওয়া হবে না। তবে হজ ব্যবস্থাপনার স্বার্থে মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক, মনিটরিং, মেডিকেল ও আইটি টিম হজ কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনের জন্য সৌদি আরবে যাবেন।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন ধর্ম উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, ‘সরকারের মাধ্যমে পরিচালিত হজ ব্যবস্থাপনায় খরচ নির্বাহ শেষে উদ্বৃত্ত অর্থ হিসেবে গত বছর হাজীদের প্রায় ৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের আইবিএম খাতে জমা থাকা হজ এজেন্সি ও সংশ্লিষ্টদের প্রায় ৩৮ কোটি টাকা অব্যাহত যোগাযোগের মাধ্যমে ফেরত এনে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, ২০২৫ সালের হজ ব্যবস্থাপনায় তিনটি নতুন সেবা চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লাব্বাইক মোবাইল অ্যাপ, যার মাধ্যমে হাজীদের অবস্থান ট্র্যাক করা সম্ভব হচ্ছে, মোবাইল ফোন রোমিং সুবিধা এবং হজ প্রিপেইড কার্ড। এসব উদ্যোগ হজ ব্যবস্থাপনাকে সহজ ও নিরাপদ করেছে। এ সফল ব্যবস্থাপনার জন্য সৌদি সরকার বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও জানান, এ বছর হজের জন্য তিনটি প্যাকেজ চালু করা হয়েছে। সীমিত ও নির্দিষ্ট আয়ের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য ‘শাস্ত্রী প্যাকেজ’ ঘোষণা করা হয়েছে, যার খরচ ৪ লাখ ৭৭ হাজার ১৬৭ টাকা। এখন পর্যন্ত হজের প্রস্তুতি সন্তোষজনক রয়েছে এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় বাড়িভাড়া, তাঁবু ভাড়া ও পরিবহন চুক্তি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

হজ ব্যবস্থাপনায় সাশ্রয়ের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সার্ভিস প্রোভাইডার কোম্পানির সঙ্গে সফল আলোচনার মাধ্যমে হজযাত্রী প্রতি প্রায় ৬০০ সৌদি রিয়াল খরচ কমানো সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন খাতে আরও ১০০ সৌদি রিয়াল সাশ্রয় করা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সৌদি ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় যে মেডিকেল সার্ভিসের জন্য হজযাত্রী প্রতি দুই সৌদি রিয়াল নির্ধারিত ছিল, তা এবার বাংলাদেশের সব হাজি বিনামূল্যে পাচ্ছেন। এ সুবিধা আলোচনার মাধ্যমে আদায় করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ধর্ম উপদেষ্টা আরও বলেন, আগামী ২০২৬ সালের হজে প্যাকেজ এক ও দুইয়ের হাজীদের তিন কোটির বেশি টাকা ফেরত দেওয়ার আশা করছে সরকার। বিভিন্ন খাতে ব্যয় কমানোর উদ্যোগের ফলে এ সাশ্রয় সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

 

 

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.