থাইল্যান্ডের নির্বাচনে বড় জয় আনুতিন চার্নভিরাকুলের নেতৃত্বাধীন জোটের

কম্বোডিয়া সীমান্তে সংঘাত এবং বিদ্যমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যেই নির্বাচন হয়েছে থাইল্যান্ডে এবং সেই নির্বাচনে বড় বিজয় পেয়েছে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের নেতৃত্বাধীন জোট। গতকাল এক ঘোষণায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) লন্ডন ভিত্তিক গণমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের রাজনৈতিক দলের নাম ভূমিজাই থাই পার্টি। থাইল্যান্ডের পার্লামেন্টে মোট আসনসংখ্যা ৪৯২টি। কোনো দল কিংবা জোট যদি সরকার গঠন করতে চায়, সেক্ষেত্রে সেই দল বা জোটকে কমপক্ষে ২৪৬টি আসনে জয় নিশ্চিত করতে হবে।

রোববার জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেছে থাইল্যান্ডের নির্বাচন কমিশন। সেই ঘোষণা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে আনুতিনের রাজনৈতিক দল ভূমিজাই থাই পার্টি মোট ১৯৬টি আসনে বিজয়ী হয়েছে, আর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১৬টি আসনে। বাকি ১৮০টি আসনে জয় পেয়েছে রক্ষণশীল পিউ থাই পার্টি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল।

অর্থাৎ কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ফলে সরকার গঠন করতে হলে এখন জোট ছাড়া আর কোনো পথ নেই। তবে যেহেতু ভূমিজাই থাই পার্টি সবচেয়ে বেশি আসনে জিতেছে, তাই জোট সরকার গঠন হলে নিয়ম অনুযায়ী অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলই প্রধানমন্ত্রীর পদে বসবেন।

৫৮ বছর বয়সী আনুতিন থাইল্যান্ডের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হন ২০২৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর, সাবেক প্রধানমন্ত্রী পায়েতংতার্ন সিনাওয়াত্রা ক্ষমতা হারানোর পর। নৈতিকতা লঙ্ঘনের দায়ে ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট পায়েতংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করেন থাইল্যান্ডের সাংবিধানিক আদালত।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী পায়েতংতার্ন সিনাওয়াত্রা থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার মেয়ে এবং দেশটির বৃহত্তম রাজনৈতিক দল পিউ থাই পার্টির নেত্রী। ২০২৪ সালের আগস্টে থাইল্যান্ডের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ করেন পায়েতংতার্ন। সে সময় তার বয়স ছিল ৩৮ বছর। শপথ গ্রহণের মাত্র এক বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরপরই ক্ষমতা হারান তিনি।

থাইল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল নয়। গত ২ বছরে তিন জন প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় এসেছেন। তার ওপর আনুতিন চার্নভিরাকুলের অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় গত ডিসেম্বর কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত সংঘাত হয়েছিল থাইল্যান্ডের। টানা কয়েকদিনের এ সংঘাতে উভয় দেশের সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকজন হতাহতও হয়েছেন।

এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়েছে থাইল্যান্ডে এবং তাতে বিজয়ী হয়েছেন অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.