জাতীয় পতাকার অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে আনসার ও ভিডিপি কাজ করবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
রবিবার আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে বাহিনী সদস্যদের এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য করার লক্ষ্যে পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও আধুনিক ডিজিটাল তদারকির সমন্বয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর দেশব্যাপী প্রস্তুতি কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলছে। এরই অংশ হিসেবে সকল ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের অংশগ্রহণে দেশের প্রতিটি জেলায় নির্বাচনী প্রস্তুতিমূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আজ চট্টগ্রাম জেলার নির্বাচনী প্রস্তুতিমূলক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। চট্টগ্রামে সরাসরি ২৫ হাজার ৫৪৫ জন সদস্যদের উপস্থিতির পাশাপাশি, জায়ান্ট স্ক্রিনের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলার নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত ৭ হাজার ৭১৪ জন সদস্য সমাবেশে যুক্ত হন।
সমাবেশে মহাপরিচালক উপস্থিত সকল সদস্যের উদ্দেশ্যে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব, নৈতিকতার মনোভাব, নিরপেক্ষতা ও নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনের ওপর গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তার বক্তব্যে বিশেষভাবে গুরুত্ব পায় নির্বাচনী কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা নিশ্চিত করতে আনসার ও ভিডিপির পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো আধুনিক ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা ও তদারকি পদ্ধতির সফল সংযোজন।
সমাবেশে উপস্থিত সদস্যদের উদ্দেশ্যে মহাপরিচালক দায়িত্বে নিয়োজিত সদস্যদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, প্রতিটি সদস্য একজন সাধারণ ভোটারের প্রতিনিধি এবং জাতীয় পতাকার অতন্দ্র প্রহরী। নিরপেক্ষতা নিশ্চিতকল্পে কোনো সদস্যকে নিজ ইউনিয়নে দায়িত্ব প্রদান করা হয়নি। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, ‘বাহিনীর সদস্যরা কোনো বিশেষ পক্ষের নন; তারা নৈতিকতার আমানত রক্ষার কারিগর।’
সত্য ও মিথ্যার সংমিশ্রণে জাতির জন্য যেন কোনো দুর্ভোগ সৃষ্টি না হয় সে বিষয়ে সকলকে সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, এবারই প্রথম ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা এবং মন্ত্রণালয় পর্যন্ত বিস্তৃত ডিজিটাল তদারকি চ্যানেলের মাধ্যমে প্রতিটি মুহূর্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। ফলে যেকোনো অপতৎপরতা প্রতিরোধে বাহিনী আগের চেয়ে আরও বেশি সজাগ ও সক্ষম থাকবে। রাষ্ট্রীয় স্বার্থ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে সংশ্লিষ্ট সদস্যকে কঠোর আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
মহাপরিচালক উল্লেখ করেন, আজ থেকেই নির্বাচনী স্ট্রাইকিং ফোর্সসহ সকল সদস্যের মোতায়েন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নিয়োজিত ১৩ জন সদস্যকে কোনো প্রকার দ্বিধা বা প্রভাবমুক্ত হয়ে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি জরুরি পরিস্থিতিতে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ’ ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে নিকটস্থ স্ট্রাইকিং টিমকে অবহিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগের নির্দেশনাও প্রদান করেন।
এছাড়াও তিনি সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেন যে, নির্বাচনী শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষার্থে ফেসবুক, ইউটিউব বা টিকটকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্র, সরঞ্জামাদি কিংবা দায়িত্ব পালনসংক্রান্ত কোনো ছবি বা ভিডিও শেয়ার করা থেকে সদস্যদের কঠোরভাবে বিরত থাকতে হবে।
মহাপরিচালক দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের আশ্বস্ত করে বলেন, সদস্যদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে এবার শর্টটার্ম টিম ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজম্যান্ট সিস্টেম (এসটিডিএমএস) সফটওয়্যারের মাধ্যমে সরাসরি নিজস্ব অ্যাকাউন্টে খাবারের টাকা ও ভাতা ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিশোধ করা হচ্ছে, যা একদিকে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে, অন্যদিকে মধ্যস্বত্বভোগীদের অপতৎপরতা কার্যকরভাবে বন্ধ করবে।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী বিশ্বাস করে, প্রতিটি সদস্যের পেশাদারিত্ব, সততা ও দায়িত্বশীলতার ওপরই নির্ভর করছে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা ও দেশের ভবিষ্যৎ পরিচালনার রায়। ডিজিটাল প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগ, কঠোর শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের দৃঢ় প্রত্যয়ের সমন্বয়ে বাহিনীর এই প্রস্তুতি শুধু একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনেই নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার ও গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি সুদৃঢ় করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে আনসার ও ভিডিপির এই আধুনিকায়ন ও পেশাদারিত্ব ভবিষ্যৎ নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় একটি ইতিবাচক ও অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে মহাপরিচালক দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.