ইনস্টিটিউট অফ চার্টার্ড সেক্রেটারীজ অব বাংলাদেশ (আইসিএসবি) ঢাকার সোবহানবাগের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট (বিআইএম) মিলনায়তনে ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে “পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ রুলস, ২০২৫ এবং বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে এর প্রভাব” শীর্ষক একটি সেমিনারের আয়োজন করেছে।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) প্রতিষ্ঠানটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর কমিশনার মোঃ সাইফুদ্দিন, সিএফএ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি; সভাপতি কামরান টি. রহমান, মেট্রোপলিটন চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই); সভাপতি ইফতেখার আলম, বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ); সহ-সভাপতি মো. নাফিজ আল তারিক, সিএফএ, এফআরএম, ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।
ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট হোসেন সাদাত এফসিএস সম্মানিত অতিথিবৃন্দকে স্বাগত জানিয়ে উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি পুঁজিবাজারের সুশাসনের জন্য এই সেমিনারটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করেন। এছাড়াও তিনি ‘পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ রুলস, ২০২৫’ হালনাগাদ করার জন্য বিএসইসি-র প্রশংসা করেন।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি-র ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার এবং ভারপ্রাপ্ত চিফ রেগুলেটরি অফিসার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া এফসিএস সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তার উপস্থাপনার মূল বিষয়গুলো ছিল— নতুন বিধিমালার অধীনে অনুমোদনের শক্তিশালী কাঠামো, উন্নত মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং এক্সচেঞ্জ-নেতৃত্বাধীন পর্যালোচনা ব্যবস্থার রূপরেখা; পুঁজিবাজারের টেকসই প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ; দ্বৈত অনুমোদন ব্যবস্থা, বাজার-চালিত মূল্য নির্ধারণ এবং কঠোর ‘ডিউ ডিলিজেন্স’ প্রয়োজনীয়তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মপন্থা নির্ধারণ। এই সংস্কারগুলো সুশাসন মান উন্নত করবে এবং বাংলাদেশের আইপিও বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা দৃঢ় করবে বলে আশা করা যায়।
আইসিএসবি-র কাউন্সিল সদস্য এম নূরুল আলম এফসিএস প্যানেল আলোচনা এবং প্রশ্নোত্তর সংক্রান্ত উন্মুক্ত আলোচনা পর্ব দুটি সঞ্চালনা করেন। প্রধান অতিথি এবং বিশেষ অতিথিবৃন্দ প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন এবং সাম্প্রতিক নিয়ন্ত্রক সংস্কার ও কমপ্লায়েন্স সংক্রান্ত বিভিন্ন বাস্তবসম্মত দিক তুলে ধরেন। বিএসইসি, ডিএসই, এমসিসিআই, বিএমবিএ এবং ডিবিএ-র প্যানেল আলোচকরা নতুন নিয়মাবলী বাস্তবায়নে একে অপরকে সহযোগিতা করার বিষয়ে একমত পোষণ করেন। তারা এক্সচেঞ্জ এর ক্ষমতায়নের পাশাপাশি স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধান অতিথি মো. সাইফুদ্দিন, সিএফএ বলেন যে, এই বিধিমালার সাম্প্রতিক পরিবর্তনসমূহ একটি স্বচ্ছ, ন্যায্য এবং দক্ষ আইপিও কাঠামো তৈরির লক্ষ্যে সংস্কার করা হয়েছে। তিনি শক্তিশালী এক্সচেঞ্জ কন্ট্রোল, ডিজিটাল প্রক্রিয়া এবং ডিউ ডিলিজেন্সের মতো কার্যকরী সংস্কারগুলোর কথা উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে আইসিএসবি-এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. রফিকুল ইসলাম এফসিএস, ট্রেজারার মো. মিজানুর রহমান এফসিএস এবং কাউন্সিল সদস্য আবদুল্লাহ আল মামুন এফসিএস, মোহাম্মদ শাহজাহান এফসিএস, মোহাম্মদ হারুন আর রশীদ এফসিএস, মোঃ হুমায়ুন কবির এফসিএস সহ সরকারি কর্মকর্তা, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য এবং বিভিন্ন পেশাজীবী উপস্থিত ছিলেন। প্রশ্নোত্তর পর্বে প্যানেল আলোচকগণ সেমিনারে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
সবশেষে, আইসিএসবি-র সেমিনার ও কনফারেন্স উপকমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শওকত ইকবাল এফসিএস উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.