জানুয়ারিতে পিএমআই সূচক কমেছে

বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে বাংলাদেশের অর্থনীতির সম্প্রসারণের গতি কমেছে। জানুয়ারিতে সামগ্রিক পিএমআই সূচক ডিসেম্বরের তুলনায় শূন্য দশমিক ৩ পয়েন্ট কমে ৫৩ দশমিক ৯–এ দাঁড়িয়েছে। ডিসেম্বরে সূচকের মান ছিল ৫৪ দশমিক ২।

জানুয়ারিতে সূচক অনুযায়ী কৃষি, উৎপাদন ও পরিষেবা খাতে সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে আগের মাসে সংকোচনের পর নির্মাণ খাত আবার সম্প্রসারণে ফিরে এসেছে।

কৃষি খাতের পিএমআই সূচকের মান ছিল ৫৩ এবং উৎপাদন খাতের ৫২ দশমিক ১—এই দুটি খাতের সম্প্রসারণের গতি ডিসেম্বরের তুলনায় কমেছে। এ ছাড়া নির্মাণ খাতের পিএমআই সূচক ছিল ৫৮ দশমিক ২ ও সেবা খাতের ৫৪ দশমিক ১।

দেশের অর্থনীতির প্রধান চারটি খাত—কৃষি, উৎপাদন, নির্মাণ ও সেবা—প্রতি মাসে পিএমআই ইনডেক্সের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সূচকের মান ৫০-এর ওপরে থাকলে বোঝা যায় সেই খাত সম্প্রসারণে আছে, আর ৫০-এর নিচে মানে সংকোচন।

ভবিষ্যৎ ব্যবসা সূচকের ক্ষেত্রে কৃষি, উৎপাদন, নির্মাণ ও পরিষেবা—অর্থনীতির সব প্রধান খাতেই দ্রুততর সম্প্রসারণের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। অর্থাৎ ব্যবসায়ীরা অর্থনীতির বিষয়ে ইতিবাচক।

উত্তরদাতারা জানিয়েছেন, সার্বিকভাবে ব্যবসায়িক পরিস্থিতি দুর্বল ও অনিশ্চিত। কাঁচামাল, শ্রম, পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির ফলে খরচ বেড়েছে, যদিও প্রত্যাশা অনুযায়ী বিক্রি হচ্ছে না। আসন্ন নির্বাচন ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ব্যবসার ক্ষেত্রে বড় উদ্বেগ তৈরি করছে। ফলে কার্যাদেশ স্থগিত, বিনিয়োগে অনীহা এবং ক্রেতাদের সতর্ক আচরণ লক্ষ্য করা গেছে।

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সিইও এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের গতি শ্লথ হয়েছে। বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের গতি কমে যাওয়া, কার্যাদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা—এসব কারণে রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

তিনি আরও বলেন, শরৎকালীন ধান কাটায় বিলম্বের কারণে কৃষি খাতেও মন্দার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তবে অর্থনীতির সব প্রধান খাতে ভবিষ্যৎ ব্যবসা সূচকের ধারাবাহিক সম্প্রসারণের ফলে ভবিষ্যতে টেকসই আশাবাদের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের সংগঠন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) এবং গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশ যৌথভাবে পিএমআই প্রণয়ন করছে। আজ রোববার ডিসেম্বরের পিএমআই প্রকাশ করা হয়েছে।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.