যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত একটি অন্তর্বর্তী বাণিজ্যচুক্তির বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। এর ফলে ভারতীয় পণ্যের ওপর বিদ্যমান শাস্তিমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করে তা ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ট্রাম্পের প্রাথমিক ঘোষণার পর শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুই দেশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সই করা নির্বাহী আদেশের ফলে রাশিয়া থেকে তেল কেনার দণ্ড হিসেবে ভারতের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিনিময়ে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সমঝোতা দুই দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্কে নতুন গতি আনবে।
চুক্তির উল্লেখযোগ্য ১০টি দিক হলো:
১. ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সব শিল্পপণ্য এবং নির্দিষ্ট কিছু কৃষি ও খাদ্যপণ্যের (পশুখাদ্য, ফল, সয়াবিন তেল, ওয়াইন ইত্যাদি) ওপর শুল্ক কমাবে বা পুরোপুরি তুলে নেবে।
২. টেক্সটাইল, পোশাক, চামড়া, জুতা, প্লাস্টিকসহ প্রধান ভারতীয় রপ্তানি পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক ১৮ শতাংশ বজায় থাকবে।
৩. চুক্তি পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হলে জেনেরিক ওষুধ, রত্ন, হীরা ও বিমানের যন্ত্রাংশের ওপর থেকে পাল্টা শুল্ক তুলে নেবে যুক্তরাষ্ট্র।
৪. নির্দিষ্ট কিছু বিমান ও যন্ত্রাংশের আমদানিতে ভারত আলাদাভাবে শুল্ক ছাড় পাবে।
৫. চিকিৎসা সরঞ্জামসহ বাণিজ্যের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও নীতিগত অশুল্ক বাধা দূর করতে উভয় দেশ কাজ করবে।
৬. তথ্যপ্রযুক্তি পণ্যের ক্ষেত্রে ভারতের কঠোর আমদানি লাইসেন্সিং ব্যবস্থা বাতিল করা হবে।
৭. মার্কিন খাদ্য ও কৃষিপণ্যের প্রবেশে বিদ্যমান বাধাগুলো ধাপে ধাপে অপসারণ করবে ভারত।
৮. ভারত আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০০ বিলিয়ন (৫০ হাজার কোটি) ডলারের জ্বালানি, বিমান, মূল্যবান ধাতু ও প্রযুক্তিপণ্য কেনার পরিকল্পনা করেছে।
৯. ডেটা সেন্টারের জিপিইউসহ উন্নত প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করা হবে।
১০. দীর্ঘমেয়াদী দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি (BTA) নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে, যেখানে শুল্ক আরও কমানোর অনুরোধ বিবেচনা করবে যুক্তরাষ্ট্র।
যৌথ বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, পণ্য নিরাপত্তা ও লাইসেন্সিংয়ের ক্ষেত্রে ভারত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড গ্রহণে সম্মত হয়েছে। এছাড়া ‘তৃতীয় পক্ষ’ তথা চীনের অ-বাজারভিত্তিক অর্থনৈতিক নীতি মোকাবিলায় দুই দেশ পারস্পরিক সহযোগিতার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.