জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঐক্য সরকার গঠনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নির্বাচনে তার দল এককভাবেই সরকার গঠনের মতো আসন পাবে বলে তারা আত্মবিশ্বাসী।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার গুলশানে নিজ কার্যালয়ে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, আমি কীভাবে আমার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে নিয়ে সরকার গঠন করব? তাহলে বিরোধী দলে থাকবে কে?
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী যদি সংসদে বিরোধী দলে থাকে, তবে তিনি আশা করেন তারা একটি দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে।
১২ ফেব্রুয়ারি ভোট, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
তরুণদের নেতৃত্বে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের পর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর দেশটি বর্তমানে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন।
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক নির্বাসনে থাকার পর গত ডিসেম্বর দেশে ফেরেন ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান। তার নেতৃত্বাধীন বিএনপি এবারের নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯২টিতে প্রার্থী দিয়েছে। দলের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, তারা দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।
তারেক রহমান নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ না করলেও বলেন, সরকার গঠনের জন্য আমাদের যথেষ্ট আসন থাকবে—এই বিষয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী।
বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছে ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াত একসঙ্গে দেশ শাসন করেছিল। তবে এবারের নির্বাচনে তারা প্রতিদ্বন্দ্বী।
জামায়াত নেতারা দেশকে স্থিতিশীল করতে ঐক্য সরকার গঠনের আগ্রহ দেখালেও সেই প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করেছেন তারেক রহমান।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক : ভারত না চীন?
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বর্তমানে টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চীনের প্রভাব ও বিনিয়োগ বাড়ছে।
ভারতের পরিবর্তে চীনের দিকে ঝুঁকবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, আমাদের এমন অংশীদার দরকার, যারা বাংলাদেশের প্রায় ১৭৫ মিলিয়ন মানুষের জন্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবে।
তিনি বলেন, আমাদের তরুণদের চাকরি দিতে হবে, দেশে বিনিয়োগ আনতে হবে। যারা বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে সম্মান করবে এবং আমাদের জনগণের কল্যাণে কাজ করবে—আমরা তাদের সঙ্গেই বন্ধুত্ব করব। কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে নয়।
আওয়ামী লীগ ও ভবিষ্যৎ রাজনীতি
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। দলটির অনেক শীর্ষ নেতা ও পরিবারের সদস্য ইতোমধ্যে বিদেশে অবস্থান করছেন।
শেখ হাসিনার সন্তানরা ভবিষ্যতে রাজনীতিতে ফিরতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, যদি জনগণ কাউকে গ্রহণ করে, জনগণ যদি তাকে চায়, তাহলে রাজনীতি করার অধিকার তার রয়েছে।
রোহিঙ্গা ইস্যু
বাংলাদেশ বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে। মিয়ানমারে নিরাপত্তাহীনতার কারণে তারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।
তারেক রহমান বলেন, আমরাও চাই তারা নিজ দেশে ফিরে যাক, তবে সেটি অবশ্যই নিরাপদ পরিবেশে হতে হবে। যতদিন না নিরাপদ প্রত্যাবাসন সম্ভব হচ্ছে, ততদিন তারা বাংলাদেশে থাকতে স্বাগত।
তিনি জানান, এই সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.