জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের অভিযোগে রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের মামলায় গ্রেফতার বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ার আলমের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জুনাইদের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। ছরওয়ার আলমের পক্ষে তার আইনজীবী আলমগীর হোসেন জামিন আবেদন করেন। অপরদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক তার জামিন বাতিল চেয়ে শুনানি করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আদেশ অপেক্ষমাণ রেখে ঘণ্টাখানেক পর জামিনের আদেশ দেন।
শুনানিতে বাদীপক্ষের আইনজীবী আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘আজকের আসামি (ছরওয়ার) যে কাজ করেছেন, সেটা স্বৈরাচারী সরকারের প্রেতাত্মা হিসেবে করেছেন। স্বৈরাচারের প্রেতাত্মা ওনার ওপরে ভর করেছে। ওনার কী কাজ ছিল জামায়াতের আমিরের মতো সম্মানিত লোকের আইডি হ্যাক করতে হবে? তার মতো লোককে এ আসামি কোন কারণে হয়রানি করলো? উনি দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য এটা করেছেন। মহিলা ভোটার যেহেতু অনেক, এ কারণে তাদের উত্তেজিত করার জন্য জামায়াতের আমিরের নামে ইচ্ছাকৃতভাবে এটা করেছেন।’
মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে উদ্দেশ করে আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী বলেন, ‘এ দেশে শাক-পাতা চুরি করলেও ৭/৮ দিন রিমান্ড চাওয়া হয়। কী কারণে আসামির রিমান্ড চাওয়া হয়নি জানি না। নৈরাজ্য সৃষ্টি করার জন্য এটা করেছেন। তার জামিন তো হবেই না। আসামির বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদন করা উচিত ছিল। কারণ, এখানে জিজ্ঞাসাবাদের ব্যাপার আছে। উনি দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য এটা করেছেন।’
রাষ্ট্রপক্ষের পিপি আদালতে বলেন, ‘যেহেতু আসামি ছরওয়ারের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে, এ জন্য তাকে কারাগারে পাঠানো হোক। পরে তদন্ত করে যখন দরকার রিমান্ড চাওয়া হবে। যেহেতু আজকে রিমান্ড চায়নি-এ জন্য তাকে আপাতত কারাগারে পাঠানো হোক।’
আদালতে আসামি ছরওয়ার বলেন, ‘আমি সজ্ঞানে বলছি, কয়েক দিন পর অবসরে যাবো। এই সময়ে আমার হাত দিয়ে এ বয়সে এসব কাজ হয়নি। এমনকি এসব কখনও কল্পনা করি নাই, সত্যি বলছি। আমি সব কিছু দিয়েছি পুলিশকে তদন্ত করার জন্য। তারা তদন্ত করে দেখুক, কিছু পায় কিনা। আমি নিজেকে একশভাগ নির্দোষ দাবি করছি।’
পরে আদালত তাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনাকে কোথা থেকে ধরেছে।’ তিনি বলেন, ‘গত পরশু রাত ১০টার দিকে বাসা থেকে ধরেছে।’
ছরওয়ারের স্ত্রী শামীম আরা স্বামীকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে শুনানি শেষে আদালতের সামনে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘আমার স্বামী সম্পূর্ণ নির্দোষ। সে ৩২ বছর ধরে সম্মানের সঙ্গে সরকারি চাকরি করেছে। এটা একটা বাচ্চাও বুঝে যে কোনও হ্যাকার কি নিজের ঠিকানা দিয়ে হ্যাক করবে? তিনি কোনও রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত না। সে কোনও রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না। তাহলে সে আওয়ামী লীগের ১৭ বছর এবং এর আগে কোনোভাবে চিহ্নিত হতো। কারণ সে এখানে দীর্ঘ বছর চাকরি করেছে। তার কাজ ছিল চাকরি করে বাসায় আসা এবং বাজারে যাওয়া-আসা করা। এ ছাড়া আর কিছু করতো না সে। তার এখন রিটায়ার্ডের সময়। কোনও মানুষ কি জেনে-বুঝে নিজের পায়ে কুড়াল মারবে? ’
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমসহ অজ্ঞাতনামা ১৫ বা ২০ জন আসামি জানুয়ারি মাসের ৩১ তারিখ বিকাল ৫টার দিকে জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে। তারা একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পোস্ট করে। এ ঘটনায় বুধবার রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ আইনে মামলা করেন দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. সিরাজুল ইসলাম।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.