অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শুক্রবার ওমানে বৈঠকে বসতে সম্মত হয়েছে। তবে আলোচনা শুরুর আগেই আলোচ্যসূচি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র মতভেদ। ইরান চাইছে কেবল তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কথা বলতে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র জোর দিচ্ছে ব্যালিস্টিক মিসাইল, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থন ও মানবাধিকারসহ বিস্তৃত বিষয় অন্তর্ভুক্তের ওপর।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
স্থান ও আলোচ্যসূচি নিয়ে দ্বন্দ্বে বৈঠকটি অনিশ্চিত হয়ে পড়লেও শেষ পর্যন্ত তেহরান ইস্তাম্বুলের বদলে ওমানকে বৈঠকস্থল হিসেবে মেনে নেয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার এনবিসি নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে সতর্ক করে বলেছেন, ‘তার খুবই চিন্তিত হওয়া উচিত।’ তেহরানের ওপর সামরিক হামলার হুমকি বজায় রেখে ট্রাম্প আরো জানান, কোনো চুক্তি না হলে ‘ভয়াবহ কিছু’ ঘটতে পারে।
ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, মিসাইল কর্মসূচি আলোচ্যসূচির বাইরে। তেহরান কেবল তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং পশ্চিমা দেশগুলোর দেয়া অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার বিষয়েই কথা বলতে আগ্রহী। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনায় উপস্থিত থাকবেন সাবেক হোয়াইট হাউস উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ; ইরানের প্রতিনিধিত্ব করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র গত এক মাসে অঞ্চলটিতে অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান ও সেনা মোতায়েন করেছে। ড্রোন ভূপাতিত হওয়া ও ট্যাঙ্কার জাহাজকে ঘিরে ধাওয়া–পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়েছে।
উভয় পক্ষই আপসের পথ খুঁজছে। যদিও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, মিসাইল কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার—এই তিনটি ইস্যু আলোচনাকে সবচেয়ে কঠিন করে তুলেছে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.