নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলায় প্রায় ২০০ জন নিহত

নাইজেরিয়ার পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলে বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত প্রায় ২০০ মানুষ নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পশ্চিমাঞ্চলীয় ক্বোয়ারা রাজ্যের ওরো গ্রামে হামলায় কমপক্ষে ১৭০ জনকে হত্যা করা হয়। অল্প সময় পরই উত্তরাঞ্চলীয় কাটসিনা রাজ্যে ঘরে ঘরে ঢুকে গুলি করে ২১ জনকে হত্যা করে আরেক দল বন্দুকধারী।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এফপির এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

ক্বোয়ারার স্থানীয় আইনপ্রণেতা সাইদু বাবা আহমেদ জানান, আক্রমণকারীরা গ্রামবাসীদের হাত বেঁধে সারিবদ্ধভাবে গুলি করে হত্যা করে এবং পরে ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে আগুন ধরিয়ে দেয়। বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ। স্থানীয় গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল উভয়েই নিহতের সংখ্যা ১৭০–এর বেশি বলে জানিয়েছে।

এই হত্যাকাণ্ড নাইজেরিয়ার সাম্প্রতিক মাসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ। দেশটি এরইমধ্যে জটিল নিরাপত্তা সংকটে আছে—উত্তর ও উত্তর–পূর্বে বোকো হারাম ও আইএস সংযুক্ত গোষ্ঠী সক্রিয়, আর উত্তর–পশ্চিমে চলছে অপহরণ নির্ভর সশস্ত্র তৎপরতা।

ওরো গ্রামের বাসিন্দারা মনে করেন, হামলাটি বোকো হারামের সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠীরই কাজ। সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের প্রতিশোধ হিসেবেই এ হামলা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনী গত মাসে সশস্ত্র গোষ্ঠী বিরোধী ‘সমন্বিত অভিযান’ চালিয়ে অন্তত ১৫০ জন জঙ্গিকে হত্যার দাবি করেছিল।

অন্যদিকে কাটসিনায় ছয় মাসের শান্তিচুক্তি ভেঙে আবারও ঘরে ঘরে গিয়ে হত্যাযজ্ঞ শুরু করেছে সশস্ত্র দল। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পর্যাপ্ত সক্ষমতা গড়ে না ওঠায় এ ধরনের গোষ্ঠী গ্রামাঞ্চলে অবাধে চলাফেরা করছে।

নাইজেরিয়া সরকার এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করেছে। ডিসেম্বরের শেষ দিকে মার্কিন বাহিনী ‘সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা চালানোর পর সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড মোকাবেলায় সহায়তার জন্য নতুন করে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা দেশটিতে পৌঁছেছেন।

অটোমেটিক অস্ত্রসজ্জিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর পুনরুজ্জীবিত তৎপরতায় নাইজেরিয়ার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবস্থা আরো সংকটাপন্ন হয়ে ওঠছে।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.