ইরানে নারীরা এখন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মোটরসাইকেল ও স্কুটার চালানোর জন্য লাইসেন্স নিতে পারবেন। বুধবার স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, দেশটির সরকার এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে ইরানে দুই চাকার যান চালানো নিয়ে দীর্ঘদিনের আইনি অস্পষ্টতার অবসান ঘটল।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) এফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, এর আগে ইরানি আইনে নারীদের মোটরসাইকেল চালানো স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ না থাকলেও কর্তৃপক্ষ লাইসেন্স দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিল। ইরানের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত এক প্রস্তাবে সই করেন, যা গত জানুয়ারির শেষে মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ট্রাফিক পুলিশকে নারী আবেদনকারীদের জন্য ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
দেশটিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সরকার-বিরোধী বিক্ষোভ ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মাঝেই এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা এল। তেহরান স্বীকার করেছে যে সাম্প্রতিক সহিংসতায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ ৩ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে ইরানে নারীরা কঠোর সামাজিক বিধিনিষেধের সম্মুখীন হয়ে আসছেন। ২০২২ সালে নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর দেশজুড়ে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তারপর থেকেই নারীদের স্বাধীনতার দাবি এবং মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ প্রশমিত করতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে ইরান সরকার।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.