আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০০৮ সালের পর প্রথমবার ভোট দেওয়া ভোটারদের মধ্যে ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ জামায়াতকে সমর্থন জানিয়েছেন বলে নতুন এক জরিপে উঠে এসেছে। সেইসঙ্গে, জরিপে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের প্রায় ৪৮ শতাংশ এখন বিএনপিকে সমর্থন করছে। ৫২ শতাংশ মানুষ অন্যকোনো প্রার্থীদের বেছে নিতে পারেন।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিআরএফ) ও বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক ওপিনিয়ন স্টাডিজ (বিইপিওএস) যৌথভাবে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। ‘আনকাভারিং দ্য পাবলিক পালস’ শীর্ষক এ গবেষণায় ভোটারদের রাজনৈতিক মনোভাব ও নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে। সিআরএফের স্ট্র্যাটেজিক কো-অর্ডিনেটর জাকারিয়া পলাশ প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন।
গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, ৯০ শতাংশের বেশি ভোটার আগামী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। প্রায় ৮ শতাংশ ভোটার এখনো অনিশ্চিত বা ভোটে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করেননি। লিঙ্গ, বয়স, শিক্ষা ও বসবাসের স্থানভেদে ভোটদানের আগ্রহে বড় ধরনের পার্থক্য নেই।
প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ভোটারদের অংশগ্রহণ, অগ্রাধিকার, নেতৃত্ব সংক্রান্ত ধারণা ও নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে জনমত বিশ্লেষণ করা হয়েছে। স্ট্রাটিফাইড র্যান্ডম স্যাম্পলিং পদ্ধতিতে ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দুই ধাপে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মোট ১১ হাজার ৩৮ জন ভোটার অংশ নেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোটারদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হচ্ছে দুর্নীতি ও সুশাসন। প্রায় ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটার দুর্নীতিকে প্রধান সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে ধর্মীয় বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছেন মাত্র ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, সাবেক আওয়ামী লীগ সমর্থকদের প্রায় ৪৮ শতাংশ এখন বিএনপিকে সমর্থন করছে। ৫২ শতাংশ মানুষ অন্য কোনো প্রার্থীদের বেছে নিতে পারেন। অন্যদিকে, ২০০৮ সালের পর প্রথমবার ভোট দেওয়া ভোটারদের মধ্যে ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ জামায়াতকে পছন্দ করছেন।
জরিপে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ভোটার একটি মাধ্যমের ওপর নির্ভর না করে একাধিক প্ল্যাটফর্ম থেকে তথ্য নেন। এতে প্রথাগত ও ডিজিটাল মিডিয়ার মিশ্র ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ার ইঙ্গিত দেয়। জরিপে নির্বাচনের দিনের নিরাপত্তা নিয়েও উল্লেখযোগ্য উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। ভোটাররা ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে বেশি শঙ্কিত। ভয়ভীতি প্রদর্শন, ভোট কারচুপি এবং ব্যালট ভর্তি- এ ধরনের আশঙ্কা প্রায় সব রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের মধ্যেই রয়েছে, যদিও উদ্বেগের মাত্রা দলভেদে ভিন্ন।
জরিপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো, অনেক ভোটারের কাছে দল নয়, প্রার্থীই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় প্রার্থীকে বিবেচনায় নেন। এর মধ্যে ৩০ দশমিক ২ শতাংশ শুধু প্রার্থীর ভিত্তিতেই ভোট দেন, আর ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ ভোটার প্রার্থী ও দল-দুটোকেই বিবেচনায় রাখেন।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.