এক্স কাণ্ড: আইনের বাস্তব প্রয়োগ দেখার অপেক্ষায় জামায়াত আমির

এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে সাইবার হামলা বা হ্যাকের শিকার হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তার অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নারীদের প্রসঙ্গে বিতর্কিত পোস্ট ইস্যুতে মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলম নামে বঙ্গভবনের এক কর্মকর্তাকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক স্ট্যাটাস তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ আমার ভেরিফাইড এক্স আইডি (টুইটার), যেখান থেকে হ্যাক হয়েছিল, সেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হয়েছে।’

পোস্টে তিনি আরও লিখেন, ‘আমি আশা করি, এখন ন্যায়বিচারটাও পাব এবং তা খুবই প্রয়োজন। দেশে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আসন্ন নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার পক্ষে এ ধরনের আইনি উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। শাস্তি নিশ্চিত হলে অনেকেই সাবধান হয়ে যাবে।

তিনি লিখেন, আশা করি, এখান থেকে অনেকেরই শিক্ষা হবে। অপেক্ষায় রইলাম- আইনের বাস্তব প্রয়োগ দেখার জন্য। অতি অল্প সময়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধন্যবাদ।

উল্লেখ্য, গত ৩১ জানুয়ারি বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স হ্যান্ডল থেকে একটি পোস্ট ভাইরাল হয়, যার একটি অংশ অনুবাদ করলে দাঁড়ায়— ‘আমরা বিশ্বাস করি যে যখন মহিলাদের আধুনিকতার নামে ঘর থেকে বের করা হয়, তখন তারা শোষণ, নৈতিক অবক্ষয় এবং নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হয়। এটি অন্য কোনো রূপে পতিতাবৃত্তির মতোই।’

পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয় দেশব্যাপী। তবে, ১ জানুয়ারি রাত ১টার দিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয় শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়েছিল। জামায়াত আমির এরকম কোনও পোস্ট করেননি। পরে রাত সাড়ে তিনটার দিকে এ নিয়ে জিডিও করা হয় থানায়।

পরে ওই রাতেই নিজের এক্স পোস্টে জামায়াত আমির দাবি করেন, আমি স্পষ্ট করে জানাতে চাই যে, আমার অ্যাকাউন্টটি সম্প্রতি হ্যাক করা হয়েছিল এবং সেখানে আমার নামে ভুয়া কিছু লেখা প্রকাশ করা হয়েছে। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তবে, অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট হওয়ার ১২ ঘণ্টা পর থানায় জিডি করা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। বিশেষ করে বিষয়টি নিয়ে বেশ সরব ভূমিকা পালন করছে আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি।

এদিকে তুমুল বিতর্কের মধ্যে গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ঘটনাটি নিয়ে তদন্তে নেমেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল হ্যাকের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন ও অগ্রগতি জানাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে গিয়ে এ সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেয়।

দলটির দাবি, তদন্তে দেখা গেছে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় অফিসিয়াল ই-মেইলসহ একাধিক অফিসিয়াল ঠিকানায় একটি ফিশিং মেইল পাঠানো হয়েছিল, যার মাধ্যমে ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নেয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ফিশিং মেইলটি বঙ্গভবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সরকারি ই-মেইল অ্যাড্রেস থেকে পাঠানো হয়েছিল। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া না পাওয়ায় মঙ্গলবার সরাসরি বঙ্গভবনে গিয়ে অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে দাবি করে জামায়াত।

এ প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত মধ্যরাতে মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আটক এ কর্মকর্তা রাষ্ট্রপতি দপ্তরের এসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামার হিসেবে কর্মরত আছেন।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.