পোশাকশিল্পের সংকট মোকাবিলায় জরুরি আর্থিক সহায়তা চাইল বিজিএমইএ

দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের সংকট মোকাবিলাসহ রপ্তানি সচল রাখতে সরকারের কাছ থেকে নীতিগত ও জরুরি আর্থিক সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) অর্থ বিভাগের সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে বিজিএমইএর একটি প্রতিনিধিদল এই আবেদন জানায়।

গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, সহসভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি বৈঠকে জানায়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতায় পোশাক খাত ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমেছে। এমনকি গত তিন মাসে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি গড়ে ৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় গত এক বছরে প্রায় ৪০০ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং আরও অনেক কারখানা বন্ধের ঝুঁকিতে রয়েছে।

বিজিএমইএ প্রতিনিধিদল উল্লেখ করে যে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, সরকারি ছুটি এবং ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে কর্মদিবস অনেক কমে আসবে। ৬০ দিনের মধ্যে কারখানা মাত্র ৩৫ দিন খোলা থাকলেও মার্চ মাসে নিয়মিত বেতনের পাশাপাশি বোনাস ও অগ্রিম বেতন মিলিয়ে প্রায় দ্বিগুণ মজুরি পরিশোধ করতে হবে। এতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) প্রতিষ্ঠানগুলো চরম অর্থসংকটে পড়বে। সঠিক সময়ে ব্যাংকিং সহায়তা না পেলে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে, যা শিল্পে অস্থিরতার কারণ হতে পারে।

বৈঠকে বিজিএমইএ নেতারা বকেয়া নগদ সহায়তার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করে অর্থ ছাড়ের দাবি জানান। পাশাপাশি ঈদ ও নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনায় শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও বোনাস নিশ্চিত করতে ছয় মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ স্বল্প সুদে ‘সফট লোন’ হিসেবে দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানান।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.