মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারির পর অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা শুরু করার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে তিনি এই ঘোষণা দেন।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জানান, দেশের জাতীয় স্বার্থের কাঠামোর মধ্যে থেকে ‘ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক’ আলোচনার জন্য তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে শর্ত হিসেবে তিনি ‘হুমকি ও অযৌক্তিক প্রত্যাশামুক্ত’ পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন। গত মাসে ইরানে ভয়াবহ সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে তেহরানের কঠোর পদক্ষেপের প্রতিবাদে ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে একটি শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী বহর পাঠানোর পর এই কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হলো।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার এক সতর্কবার্তায় বলেছিলেন যে, তিনি ইরানের সঙ্গে একটি সমাধানে পৌঁছানোর বিষয়ে আশাবাদী হলেও চুক্তি না হলে ‘খারাপ কিছু’ ঘটবে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই প্রচ্ছন্ন সামরিক হুমকির মুখেই তেহরান আলোচনার টেবিলে বসার সিদ্ধান্ত নিল। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, পারমাণবিক অস্ত্র না থাকার নিশ্চয়তা দিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব, তবে ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা করবে না।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে তা একটি ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্কের ইস্তাম্বুলে আগামী শুক্রবার একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে, যেখানে কাতার ও সৌদি আরব মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.